kalerkantho

রবিবার । ১২ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০। ৯ সফর ১৪৪২

সব গৃহহীনের জন্য ঘর

মুজিববর্ষে সরকারের সেরা উপহার

১২ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সব গৃহহীনের জন্য ঘর

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে দৃঢ় পায়ে এগিয়ে চলেছে বর্তমান সরকার। মুজিববর্ষে কাউকে গৃহহীন রাখা হবে না—এমন অঙ্গীকার করেছিলেন বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা এবং বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি এখন শেষ পর্যায়ে। সব কিছু ঠিক থাকলে প্রায় ৯ লাখ গৃহহীন পরিবারের জন্য ঘর নির্মাণের বিপুল কর্মযজ্ঞ শুরু হবে আগামী মাসের মাঝামাঝি। হাজার বছরের পরাধীনতা কাটাতে এক সাগর রক্তের বিনিময়ে বাঙালি জাতি যে স্বাধীনতা অর্জন করেছে, সেই স্বাধীনতার সুফল ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে এটি হবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উদ্যোগ।

কালের কণ্ঠে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় মাঠ প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে গৃহহীনদের যে তথ্য সংগ্রহ করেছে, সে অনুযায়ী দেশে এখন আট লাখ ৮২ হাজার ৩৩টি গৃহহীন পরিবার রয়েছে। এর মধ্যে জমি আছে কিন্তু ঘর নেই এমন পরিবার রয়েছে পাঁচ লাখ ৮৯ হাজার ৭৫০টি। ঘর বা জমি কোনোটিই নেই এমন পরিবার রয়েছে দুই লাখ ৯২ হাজার ২৮৩টি। বর্তমানে গৃহহীনদের পুনর্বাসনে চালু থাকা সরকারের তিনটি উদ্যোগের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ প্রকল্প এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের গুচ্ছগ্রাম প্রকল্প থেকে জমি ও ঘর কোনোটিই নেই এমন পরিবারগুলোকে জমির বন্দোবস্তসহ ঘর করে দেওয়া হবে। আর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দুর্যোগ সহনীয় ঘর প্রকল্প থেকে যাদের জমি থাকলেও ঘর নেই, তাদের ঘর করে দেওয়া হবে।

প্রতিটি ঘরে পাঁচ ফুটের একটি বারান্দা, দুটি বেডরুম, একটি রান্নাঘর ও একটি টয়লেট থাকবে। প্রতিটি ঘর নির্মাণে খরচ ধরা হয়েছে এক লাখ ৭১ হাজার টাকা। ঘরের ওপরে থাকবে টিনের ছাউনি। দেয়াল ও ফ্লোর হবে ইটের। জানা যায়, সরকারের পাশাপাশি জাতীয় বা আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বেসরকারি উদ্যোক্তারাও যাতে এই কাজে অংশ নিতে পারেন, সেই সুযোগ রাখা হবে। এসব ঘরের নির্মাণকাজের তদারকি ও বাস্তবায়ন করবে উপজেলা পর্যায়ের পিআইসি কমিটি। জাতীয় পর্যায় থেকেও মান যাচাইয়ের জন্য উচ্চ পর্যায়ের একটি কমিটি থাকবে। আর সার্বিক তত্ত্বাবধানে থাকবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। ফলে ধারণা করা যায়, এই কাজে অনিয়মের সুযোগ কমে আসবে এবং দ্রুততার সঙ্গে তা সম্পন্ন হবে।

পঁচাত্তর সালে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা এবং দেশকে পাকিস্তানি ভাবধারায় ফিরিয়ে নেওয়ার অপচেষ্টার ফলে জাতির জনকের স্বপ্ন বাস্তবায়ন যেমন বাধাগ্রস্ত হয়েছিল, তেমনি দেশ বঞ্চিত হয়েছিল স্বাধীনতার সুফলপ্রাপ্তি থেকে। বঙ্গবন্ধুকন্যার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় আসার পর শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন। আমরা আশা করি, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে বাংলাদেশের এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে। দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর সব প্রচেষ্টা আরো জোরদার হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা