kalerkantho

শনিবার । ১১ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০। ৮ সফর ১৪৪২

চালের বাজার ঊর্ধ্বমুখী

সরকারের নজরদারি জরুরি

১১ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বোরোর ভালো ফলনের পর খাদ্যশস্যের প্রধান উপকরণ চালের দাম কমবে বলে আশা করেছিল মানুষ—সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু মানুষের ভাবনা আর মজুদদারের ভাবনা এক নয়। বাজারে কারসাজি করা মোটামুটি তাদের মজ্জাগত হয়ে গেছে। তারা যে ব্যবস্থা কায়েম করেছে, তাকে বলা যায় ‘ফড়িয়াতন্ত্র’। বাজারে রাষ্ট্রীয় তথা সরকারি নজরদারি ঠিকমতো কাজ না করলে ফড়িয়াতন্ত্র জেঁকে বসে। এ কারণেই বোরোর মৌসুম শেষ হওয়ার পর ধান-চালের আকাল না থাকা সত্ত্বেও লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে চালের দাম।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) বলছে, দেশে চালের অভাব নেই। নভেম্বর শেষে চাহিদা মিটিয়েও সাড়ে ৫৫ লাখ মেট্রিক টন চাল উদ্বৃত্ত থাকবে। তবে ব্যবসায়ীদের যুক্তিটা অন্য রকম। তাঁরা বলছেন, ঈদ উপলক্ষে বেশ কয়েক দিন পরিবহন ও পাইকারি বাজার বন্ধ ছিল। বন্যার সুযোগ নিয়ে কৃষক ও আড়তদার পর্যায়েও ধান মজুদ করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এসব কারণেই চালের দাম বাড়ছে। চালকল মালিকরাও বলছেন, বেশি দামের আশায় কৃষক ও আড়তদাররা ধান মজুদ করে রেখেছেন। বন্যার কারণে অনেক হাটে ধান কম আসছে। এ জন্য ধানের দাম বাড়ছে আর এর প্রভাব পড়েছে চালের দামে। চালকল মালিকরা বলছেন, মিল পর্যায়ে ঈদের সপ্তাহখানেক আগে ৫০ কেজির চালের বস্তার দাম ছিল দুই হাজার ৪৭৫ টাকা, ঈদের সময় হয় দুই হাজার ৫০০ টাকা। ঈদের পর দুই হাজার ৫২৫ টাকায় উঠেছে। দাম আরো দু-এক সপ্তাহ বাড়বে।

প্রশ্ন হলো, বোরো মৌসুমে যে এত ধান উৎপাদন হয়েছে সেগুলো গেল কোথায়? সরকারি গুদামেও লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ধান-চাল জমা হয়নি। এই ব্যাপারে চালকল মালিকদের উত্তর হলো, বোরো ধানের উৎপাদন কমপক্ষে ১০ শতাংশ কম হয়েছে। আগাম বন্যার আশঙ্কায় হাওরের ধান তোলা নিয়ে তড়িঘড়ি ছিল। করোনার কারণে শ্রমিক সংকট ছিল অনেক জেলায়। সেসব এলাকায় সময়মতো ধান কাটা হয়নি। অনেক ধান নষ্ট হয়েছে। এসব তথ্য একেবারে মিথ্যা নয়। তবে বাজারে এসব যত না প্রভাব ফেলে তার চেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে আড়তদার, চালকল মালিকদের মুনাফাপ্রবৃত্তিপ্রসূত সিদ্ধান্ত। কার্যত বাজারে সরকারের যথাযথ মনোযোগ নেই।

করোনা সংক্রমণ, বন্যা প্রভৃতি মিলিয়ে চরম বিপন্নতার সময় পার করছে বাংলাদেশ। এই সময়ে আড়তদার ও চালকল মালিকদের যেমন যৌক্তিক আচরণ করতে হবে, তেমনি সরকারকেও বাজারে সক্রিয় থাকতে হবে। নইলে বিপদ।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা