kalerkantho

সোমবার । ৬ আশ্বিন ১৪২৭ । ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০। ৩ সফর ১৪৪২

সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ

মোকাবেলায় দক্ষতা দেখাতে হবে

১০ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ

বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের প্রভাব বেশ ভালোভাবেই পড়েছে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ। করোনার মধ্যে সুপার ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের ধাক্কায় লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় দেশের ২৬ জেলা। সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, আম্ফানে প্রাথমিক ক্ষতি হয়েছিল এক হাজার ১০০ কোটি টাকা। এরপর আসে বন্যা। চলমান বন্যায় দেশের ৩৬ শতাংশ প্লাবিত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৫৫ লাখ মানুষ। মারা গেছে দেড় শতাধিক। যোগাযোগব্যবস্থাও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, ৩১ জেলা বন্যায় আক্রান্ত। বন্যার কারণে কৃষিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কোনো কোনো এলাকায় শুরু হয়েছে নদীভাঙন। ফলে সরকারকে এখন নানামুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হচ্ছে।

এরই মধ্যে কিছুটা হলেও আশার আলো দেখিয়েছে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স। করোনাভাইরাস মহামারির শুরুতে মার্চে কিছুটা হোঁচট খেলেও এর পর থেকে দেশের প্রবাসী আয়ে চলছে ঊর্ধ্বমুখী ধারা। অবশ্য বাংলাদেশের জনশক্তি যেসব দেশে বেশি রয়েছে, তেলের দাম কমে যাওয়ায় সেই মধ্যপ্রাচ্যেও দেখা দিচ্ছে সংকট। আর সে কারণেই চলতি আগস্ট মাস থেকেই রেমিট্যান্স কমে যাবে বলে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা।

করোনার কারণে চলতি অর্থবছরেও এডিপি বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হবে, এটাই স্বাভাবিক। বাজেট বাস্তবায়নে গতি নেই। করোনাভাইরাস মহামারির ধাক্কায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ছোট ছোট ব্যবসা। বেকার হয়ে পথে বসে গেছেন অনেকে। মহামারির ধকল সামলে উঠতে পারছেন না অতি ক্ষুদ্র, ছোট বা মাঝারি ব্যবসার উদ্যোক্তারা। অন্যদিকে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের এক গবেষণা বলছে, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত এক কোটি ৬৪ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে এসেছে। আশা একটাই, বছরের তৃতীয় ও শেষ প্রান্তিকে মানুষের আয় কাঙ্ক্ষিত হারে বাড়লে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হবে।

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে বাংলাদেশ। দারিদ্র্যের হার শূন্যে নামিয়ে আনতে হলে আগামী এক দশকে গড়ে ৮ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হবে বাংলাদেশকে। কভিড-১৯ পরিস্থিতিতে এই প্রবৃদ্ধি অর্জন কঠিন। ফলে এসডিজির এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হতে পারে।

কভিড পরিস্থিতিতে মাঠে বড় ধরনের কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি নেই। কিন্তু রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে না হলেও উদ্ভূত নানা পরিস্থিতি সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিয়েছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সরকারকে দক্ষতার পরিচয় দিতে হবে। রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা কঠিন হবে না বলে আমরা মনে করি।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা