kalerkantho

রবিবার । ১২ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০। ৯ সফর ১৪৪২

আরো এক সম্ভাবনার মৃত্যু

দুর্ঘটনা, না হত্যাকাণ্ড

৯ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



এভারেস্টের চূড়ায় ওঠার স্বপ্ন ছিল তাঁর। সেই স্বপ্ন পিষ্ট হলো গাড়ির চাকার নিচে। পেশায় শিক্ষক রেশমা নাহার রত্নার ছিল অভিযানের নেশা। ছিলেন পর্বতারোহী। ভারতের নেহরু ইনস্টিটিউট অব মাউন্টেনিয়ারিংয়ে পর্বতারোহণের প্রশিক্ষণ নেওয়া রেশমা কেনিয়া পর্বতের লেনানা চূড়া জয়ের পর ২০১৯ সালের আগস্টে ভারতের লাদাখে ছয় হাজার ১৫৩ মিটার উচ্চতার স্টক কাঙরি পর্বতচূড়া এবং এক সপ্তাহের মধ্যে ছয় হাজার ২৫০ মিটার উচ্চতার কাং ইয়াতসে-২ পর্বতচূড়ায় সামিট করেন। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের পাঠচক্রের সদস্য ছিলেন। গান-আবৃত্তি করতেন। সাইকেল চালাতেন নিয়মিত। শুক্রবার সকালেও সাইকেল চালিয়ে ঘরে ফিরছিলেন। চন্দ্রিমা উদ্যানের পাশের রাস্তায় এক দ্রুতগামী মাইক্রোবাস তাঁর প্রাণ কেড়ে নিল। ঝরে গেল এক সম্ভাবনা। অন্যদিকে গতকাল শনিবার চুয়াডাঙ্গার সদর উপজেলায় বাসের ধাক্কায় ভ্যানগাড়ির আরোহী ছয় শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত তিনজন।

সড়ক দুর্ঘটনা যেন এক নৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন বহু মানুষের মৃত্যু হচ্ছে সড়ক-মহাসড়কে। ‘নিরাপদ সড়ক চাই’-এর তথ্য অনুযায়ী, গড়ে প্রতিদিন ১৮ জনের প্রাণহানি হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য মতে, বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিদিন গড়ে ৫৫ ব্যক্তির প্রাণহানি হচ্ছে। আর বাংলাদেশ রিসার্চ ইনস্টিটিউটের গবেষণা বলছে, দেশে প্রতিবছর সড়ক দুর্ঘটনায় গড়ে ১২ হাজার মানুষ নিহত এবং ৩৫ হাজার আহত হয়। এর মধ্যে এমন অনেক দুর্ঘটনা ঘটে, যেগুলোকে দুর্ঘটনা না বলে হত্যাকাণ্ডও বলা যায়। পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিতেও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সড়ক দুর্ঘটনায় ২১ জন নিহত হয়েছে। কভিড-১৯ মহামারি মোকাবেলায় সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটিতে গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও সড়কে মৃত্যু থেমে ছিল না। প্রায় প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ঘটেছে।

আমরা কোনোমতেই এমন অনিরাপদ সড়ক চাই না। প্রতিদিনের এই মৃত্যুও কাম্য নয়। এ জন্য সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে। সংসদ ভবনের পাশের রাস্তায় দুর্ঘটনা ঘটিয়ে একটি মাইক্রোবাস কী করে চলে যায়? গাড়িটি এখনো কেন শনাক্ত করা গেল না, এটাও তো এখন বড় প্রশ্ন। অবশ্য পুলিশ বলেছে তারা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছে।

আমরা মনে করি, দুর্ঘটনা নামের হত্যাকাণ্ড রোধে সরকার দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা