kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৯ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০। ৬ সফর ১৪৪২

বন্যা ও নদীভাঙন

নতুন পরিকল্পনা দরকার

৮ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



নদীভাঙন ও বন্যা এখন প্রকট প্রাকৃতিক সমস্যা। এবারের বন্যা প্রায় তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে ব্যাপক ও দীর্ঘস্থায়ী। বলা হচ্ছে, আগস্ট মাসের শেষে দেশের উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আরেক দফা আকস্মিক বন্যা দেখা দেবে। এমনিতেই করোনাভাইরাস সংক্রমণ রয়েছে দেশে। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বন্যা ও বন্যাজনিত নদীভাঙন। বিভিন্ন এলাকা ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে; মানুষ, গবাদি পশু, ঘরবাড়ি বিপন্ন দশায়।

মুন্সীগঞ্জের লৌহজং ও টঙ্গিবাড়ী উপজেলা পদ্মার ভাঙনের হুমকিতে পড়েছে। সম্প্রতি সেখানকার ১২টি ইউনিয়নের কয়েক শ ঘরবাড়ি, ফেরিঘাট ও অন্যান্য স্থাপনা পদ্মায় বিলীন হয়েছে। কয়েক পুরুষের পুরনো ভিটামাটি হারিয়েছে মানুষ। বন্যার পানি নামতে শুরু করলে ভাঙন তীব্র হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় লোকজনের মতে, ভাঙন থেকে লৌহজংকে রক্ষায় প্রয়োজন স্থায়ী বাঁধ। পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধ নির্মাণ বিষয়ক একটি প্রকল্পের প্রস্তাব আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় আটকে রয়েছে। সেটি নির্মিত হলে এত দুর্যোগ মানুষকে সইতে হতো না। লৌহজংয়ের শিমুলিয়া ঘাট এলাকায় গত বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দফা ভাঙনে বিলীন হয়েছে ৪ নম্বর ভিআইপি ফেরিঘাট। ফেরিঘাটের অ্যাপ্রোচ সড়কসহ পার্কিং ইয়ার্ডের বেশ কিছু জায়গা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। লঞ্চ চলাচল বন্ধ রয়েছে। সীমিতভাবে চলছে সি-বোট ও ফেরি। ২ নম্বর ফেরিঘাটও হুমকির মুখে। এই ঘাট দিয়ে ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ১ নম্বর ফেরিঘাট চালু আছে, তবে এটিও যেকোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে। নদীভাঙনে লৌহজংয়ের মেদিনীমণ্ডল, কুমারভোগ, হলদিয়া, কনকসার, লৌহজং কেউটিয়া, গাওদিয়া, কলমা প্রভৃতি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা নদীতে বিলীন হয়েছে। সর্বস্বান্ত মানুষ বিভিন্ন এলাকায় ভাসমান জীবন যাপন করছে। শিমুলিয়ার ৩ নম্বর ফেরিঘাটের একাংশ ভেঙে পদ্মায় লীন হয়েছে। এই ঘাটের কার্যক্রম এখন বন্ধ রয়েছে। পদ্মা সেতুর কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডেরও অনেক ক্ষতি হয়েছে। আবার ভাঙন দেখা দিলে এটি টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে।

আমাদের উন্নয়ন পরিকল্পনায় প্রকৃতি ও প্রতিবেশগত ত্রুটি থেকে যায়। কাজের মান নিয়েও ব্যাপক প্রশ্ন রয়েছে। সরকারি সংস্থাগুলোই বরং বন্যা ও জলাবদ্ধতার কারণ। পললভূমির এই দেশে বন্যা আকস্মিক কোনো বিষয় নয়। নির্দিষ্ট বিরতিতে বানের পানির আধিক্য দেখা দিতে পারে। সেটি বিবেচনায় রাখতে হবে। প্রকৃতি বুঝে পরিকল্পনা করলে বন্যার প্রভাব জীবনবিনাশী হওয়ার কথা নয়।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা