kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৯ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০। ৬ সফর ১৪৪২

অর্থনীতিতে আলোর আভা

এগিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি করতে হবে

৮ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




অর্থনীতিতে আলোর আভা

করোনাভাইরাস মহামারির প্রভাবে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে সৃষ্ট মন্দার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছিল। লকডাউন বা সাধারণ ছুটি ঘোষণা, মানুষের মনে কভিড-১৯ আতঙ্ক, ওষুধ ও নিত্যপণ্যের দোকান ছাড়া সব ধরনের প্রতিষ্ঠান ও কলকারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যে অর্থনৈতিক স্থবিরতা দেখা দিয়েছিল, তা ধীরে ধীরে কাটতে শুরু করেছে। জীবন-জীবিকা একসঙ্গে চালানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবে পৃথিবীর সব দেশের অর্থনীতি যখন সচল হচ্ছে তখন সেই একই পথে পা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ। এর প্রভাবও এখন দেখা যাচ্ছে দেশের অর্থনীতিতে।

প্রকাশিত খবর বলছে, গত এপ্রিলে বাংলাদেশের যে রপ্তানি আয় তলানিতে ঠেকেছিল, বিধি-নিষেধ শিথিল করে কারখানা খোলার পর মে মাস থেকে রপ্তানি আয় বাড়তে থাকে। নতুন অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে পণ্য রপ্তানি করে দেশ যে আয় করেছে, তা গত অর্থবছরের যেকোনো মাসের চেয়ে বেশি। মোট রপ্তানি আয়ের ৮৩ শতাংশই এসেছে পোশাক খাত থেকে। জুলাই মাসে তৈরি পোশাক রপ্তানি গত বছরের জুলাই মাসের চেয়ে ১.৯৮ শতাংশ কম হলেও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় বেড়েছে ১৪.১৮ শতাংশ। জুলাইয়ে উডেন পোশাক রপ্তানি ৮.৪৩ শতাংশ কমলেও নিট পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৪.৩ শতাংশ। প্রকাশিত খবর থেকে আরো জানা যাচ্ছে, করোনাভাইরাস মহামারিকালে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলো বন্ধ হলেও পাট ও পাটজাত দ্রব্য থেকে রপ্তানি আয় বাড়ছেই। নতুন অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে পাট ও পাটজাত দ্রব্য রপ্তানি করে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫.৪৪ শতাংশ বেশি আয় করেছে বাংলাদেশ। এই খাত থেকে এক মাসে ১০ কোটি ৩৫ লাখ ডলার আয় হয়েছে, যা গত অর্থবছরের জুলাই মাসের চেয়ে ৩৮.২৩ শতাংশ বেশি। শুধু রপ্তানি নয়, করোনার মধ্যে আমদানিতেও ইতিবাচক ধারা লক্ষ করা যাচ্ছে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় গত জুন মাসে আমদানিতে প্রায় ২৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। বেড়েছে রেমিট্যান্স। শুধু জুলাই মাসে প্রবাসীরা ২৬০ কোটি মার্কিন ডলার দেশে পাঠিয়েছেন। একক মাস হিসেবে এর আগে কখনো এত পরিমাণ রেমিট্যান্স আসেনি। পুঁজিবাজারেও গতি ফিরেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে জুন মাসের চেয়ে জুলাইয়ে শেয়ার লেনদেন ও নতুন বিনিয়োগ বেড়েছে। ডিএসইর তথ্যানুযায়ী জুন মাসে চার হাজার ৭৮০ কোটি ১৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।

বৈশ্বিক মহামারির কারণে সংকটের পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য টানার যে সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, তাকে কাজে লাগাতে বিনিয়োগের আকর্ষণীয় পরিবেশ তৈরির পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মহামারি থেকে অর্থনীতি উদ্ধারে গোটা বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি করতে হবে। সবার সঙ্গে তাল মিলিয়ে অগ্রসর হতে পারলে আমরা আমাদের অর্থনীতির ক্ষতি অবশ্যই কাটিয়ে উঠতে পারব।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা