kalerkantho

রবিবার । ১২ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০। ৯ সফর ১৪৪২

চক্রবৃদ্ধি সুদের ফাঁদ

এমন ব্যবস্থা কী করে চলে!

৭ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ব্যাংক বা বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) সুদ হিসাব করে মাসিক ভিত্তিতে। এর বাইরেও একধরনের হিসাব আছে, সেটা সাপ্তাহিক। মহাজনী কারবার তথা সুদের কারবারে নিয়োজিত ব্যক্তিরা এভাবেই সুদের হিসাব রাখে। এ ব্যবস্থায় কোনো কারণে এক সপ্তাহ কিস্তি শোধ করতে না পারলে সুদ আসলে পরিণত হয়। এটা আসলে চক্রবৃদ্ধি সুদ। কোনো এলাকায় এটা ‘কারেন্ট সুদ’ নামে পরিচিত। কারেন্ট বা বিদ্যুদ্গতিতে বাড়ে বলে এর এমন নাম। বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় এ ব্যবস্থা চালু আছে; আছে দেশের আরো অনেক জায়গায়।

কালের কণ্ঠের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চিতলমারীর মহাজনরা বা কারবারিরা অভিনব কায়দায় লোকজনকে এমন ঋণের সম্পর্কে জড়িত করেন। প্রথমে তাঁরা ভাব জমান। পরিবারে আত্মীয়ের মতো যাতায়াত শুরু করেন। একপর্যায়ে দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে টাকা ধার দেন। অভাবগ্রস্ত পরিবার কৃতজ্ঞতায় তাঁদের প্রতি নতমুখ হয়ে থাকে। সময়মতো সে টাকা শোধ না করলে সুদের চক্রবৃদ্ধি ধারা চালু হয়। সে টাকায় সপ্তাহে সপ্তাহে সুদ বাড়ে। একসময় অবস্থা এমন হয় যে ধারকৃত টাকার চেয়ে দুই-তিন গুণ বেশি পরিশোধ করলেও দেনা শেষ হয় না। তখন কারবারিরা শুরু করেন দুর্ব্যবহার। এ অবস্থায় (এটা যেন আয়োজিতই) আরেকজন সুদের কারবারি ঋণগ্রস্ত পরিবারটির পাশে এসে দাঁড়ান। তিনি পরিবারটিকে কিছু টাকা ধার দেন। অতঃপর শুরু হয় আরেক সুদচক্র। প্রথমজনের সব টাকা কিন্তু পরিশোধ হয় না তখনো, তবে ঋণের সংখ্যা বাড়ে। কারবারিদের ফাঁদে আটকে যায় পরিবারটি। তাঁদের অত্যাচারে বিক্রি করতে হয় জায়গা, ভিটামাটি, বাড়ি। দেনা শোধ হয় না তবু। দেনা শোধ করতে না পেরে কেউ আত্মহত্যা করেন, কেউ বা নিরুদ্দেশ হন।

সুদের এই কারবার বেআইনি। একসময় এমন ব্যবস্থা ছিল। মাঝখানে বন্ধও হয়েছিল। ইদানীং আবার ‘অদৃশ্যভাবে’ চালু হয়েছে। চক্রবৃদ্ধির এই সুদের কারবারে দেড় লাখ টাকা এক বছরে ১০ লাখ টাকায় পরিণত হয়। দেনাদারদের জান বাঁচে তো মান বাঁচে না, মান বাঁচে তো জান বাঁচে না অবস্থা। এমন ‘প্রাগৈতিহাসিক’ ব্যবস্থা কী করে চলে সেটাই বরং প্রশ্ন। এমন নির্মম ব্যবস্থা আধুনিক কালে চলতে পারে না। আইন-শৃঙ্খলার রক্ষক বা প্রশাসনের লোকদের কি কোনো দায়িত্ব নেই! এমন ব্যবস্থা চালু থাকাই তো আশ্চর্যের বিষয়।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা