kalerkantho

সোমবার । ১৩ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১০ সফর ১৪৪২

জাপানের জরুরি ঋণ সহায়তা

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো এগিয়ে নিতে হবে

৭ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জাপানের জরুরি ঋণ সহায়তা

একদিকে করোনা মহামারি, অন্যদিকে দীর্ঘস্থায়ী বন্যা। এই দুইয়ের বিপুল অভিঘাত মোকাবেলায় বাংলাদেশ রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে। এমন সংকটজনক অবস্থায় এগিয়ে এসেছে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত বন্ধুরাষ্ট্র জাপান। জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে গত বুধবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনালাপের সময় জানান, করোনাভাইরাসের (কভিড-১৯) অভিঘাত মোকাবেলায় বাংলাদেশকে দুই হাজার ৮০৬ কোটি টাকা (তিন হাজার ৫০০ কোটি জাপানি ইয়েন বা ৩২ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলার) ঋণ সহযোগিতা দিচ্ছে জাপান। জাপানের প্রধানমন্ত্রী জানান, এসংক্রান্ত একটি বিল জাপানের সংসদে এরই মধ্যে অনুমোদিত হয়েছে। একই দিনে ঢাকায় জাপান দূতাবাস জানিয়েছে, বাংলাদেশে জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন বাংলাদেশকে ‘সরকারি উন্নয়ন সহায়তা (ওডিএ)’ হিসেবে ‘কভিড-১৯ দুর্যোগকালীন জরুরি সহায়তা’ ঋণবিষয়ক চিঠি বিনিময় করেছেন। এ ছাড়া করোনা মোকাবেলায় জাপান সরকার বাংলাদেশকে এযাবৎ প্রায় এক কোটি ৩০ লাখ ডলার জরুরি সহায়তা দিয়েছে। পিপিই, মাস্ক ও অন্য সরঞ্জাম দিয়ে সহায়তা করেছে। গত ১৬ জুলাই সিটি স্ক্যানার, এক্স-রে মেশিনের মতো জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম কিনতে জাপান প্রায় এক কোটি মার্কিন ডলার অনুদান দেওয়ার বিষয়ে পত্রবিনিময় করেছে। বাংলাদেশের চরম সংকটজনক সময়ে এভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া বাংলাদেশের প্রতি জাপান সরকারের আন্তরিকতারই বহিঃপ্রকাশ।

শুধু জাপান নয়, করোনা ও বন্যা মোকাবেলায় আরো অনেক দেশ ও সংস্থা আমাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। তাদের সবার কাছে আমরা কৃতজ্ঞ। গতকালের পত্রিকায় প্রকাশিত আরেকটি খবর থেকে জানা যায়, বাংলাদেশে বন্যাদুর্গতদের সহায়তায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে চার কোটি মার্কিন ডলার (৩৫৬ কোটি টাকা) জরুরি সহায়তা চেয়েছে জাতিসংঘ। জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) মাধ্যমে জাপান সরকার বাংলাদেশকে যে দুই হাজার ৮০৬ কোটি টাকা ঋণ সহায়তা দিচ্ছে, তার সুদের হার মাত্র ০.০১ শতাংশ। চার বছরের ‘গ্রেস’ পিরিয়ডের পর ১১ বছরে এই ঋণ শোধ করতে হবে। বাংলাদেশকে জাপানের ওডিএ সহায়তার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এই ধরনের ঋণ দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে একটি হতাশাজনক খবরও এসেছে গণমাধ্যমে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) প্রতিবেদনে অনুযায়ী বিভিন্ন দাতা দেশ ও সংস্থার প্রতিশ্রুতি মোতাবেক চার হাজার ৯৫৪ কোটি ডলার পাইপলাইনে থাকলেও অর্থ ছাড় হচ্ছে কম। অথচ দাতাদের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী অনেক ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুত অর্থের সার্ভিস চার্জও পরিশোধ করতে হচ্ছে। এই অর্থ বাংলাদেশের পাওনা বা সম্পদ। অর্থ আদায়ে আমাদের আরো দক্ষতা দেখানো প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বাংলাদেশে জাপানের বিপুল বিনিয়োগ রয়েছে। প্রতিনিয়ত এই বিনিয়োগ বাড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে জাপানের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের সঙ্গে আরো ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে। বাংলাদেশকে জাপানের এই আগ্রহের প্রতি অবশ্যই সম্মান দেখাতে হবে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা