kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৭ শ্রাবণ ১৪২৭। ১১ আগস্ট ২০২০ । ২০ জিলহজ ১৪৪১

রাজধানীতে অপরাধ বাড়ছে

আইন-শৃঙ্খলার রক্ষকদের সজাগ থাকতে হবে

৩০ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



করোনা সংক্রমণে এখনো নিম্নগতি দেখা দেয়নি; বরং বলা যায় বাংলাদেশে এখন ‘পিক টাইম’ চলছে। দূরপাল্লার বাসে, ট্রেনে ওঠার স্বাভাবিক প্রবণতাও এখনো ফেরেনি। সিটি সার্ভিসের বাসে উঠতে এখনো মানুষের দ্বিধা। কিন্তু এ চিত্রে বাস্তব অবস্থার প্রতিফলন যথাযথভাবে নেই। মানুষ করোনাভীতি কাটিয়ে উঠেছে আরো এক মাস আগে, যা হওয়ার হবে—এ মনোভাবে চলছে মানুষ। রাজধানীর রাস্তায় যথারীতি যানজট হচ্ছে। জীবনযাত্রা স্বাভাবিক প্রায়। জন ও যান চলাচল বাড়ছে এবং বাড়ছে অপরাধ।

জুন মাসে ১৯টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে রাজধানীতে। করোনা আতঙ্ক কাটিয়ে রাজধানীবাসীর জীবনযাত্রা স্বাভাবিক হতে শুরু করার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে হত্যাকাণ্ডসহ নানা অপরাধ। করোনাকালে রাজধানীর ৫০ থানায় গত এপ্রিলে মামলা হয়েছিল ৩৫১টি, কিন্তু জুন মাসে মামলার সংখ্যা দাঁড়ায় এক হাজার ১৭৭টিতে। ডিএমপির গণমাধ্যম শাখার উপকমিশনার (ডিসি) জানান, করোনার কারণে মানুষ ঘরে ছিল অনেক দিন। ওই সময়ে অপরাধীরাও ঘর থেকে বের হয়নি। এ কারণে রাজধানীতে অপরাধ কমে গিয়েছিল। রাজধানীর জীবনযাত্রা এখন অনেকটাই স্বাভাবিক। অপরাধীরাও ঘর থেকে বের হচ্ছে। তারা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড শুরু করায় থানায় মামলার সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। মাঠ পর্যায়ের পুলিশের ভাষ্য, রাজধানীতে গত জুনে যত মামলা হয়েছে তার বেশির ভাগ মাদকসংক্রান্ত। মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে, গ্রেপ্তারও হচ্ছে। গ্রেপ্তারের পর থানায় মামলা হচ্ছে। তাই মামলার সংখ্যা বাড়ছে।

পুলিশি মামলার পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, করোনাকালে বেশ কিছু ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। তবে করোনাকালে রাজধানীতে আগের যেকোনো বছরের তুলনায় কম অপরাধ হয়েছে। গত বছরের মার্চে ৫০ থানায় মামলা হয়েছিল দুই হাজার ৪৩৩টি, গত মার্চে মামলা হয় দুই হাজার ৫৯টি। গত বছর এপ্রিলে মামলা হয় দুই হাজার ৫১৫টি; গত এপ্রিলে মামলা হয় মাত্র ৩৫১টি। গত বছর মে মাসে মামলা হয় দুই হাজার ৬৩৭টি; গত মে মাসে মামলা হয় ৫১৮টি। জুন মাসে অপরাধচিত্র বদলাতে থাকে। জুনে এক হাজার ১৭৭টি মামলা রেকর্ড করে পুলিশ। চলতি মাসে মামলা আরো বাড়বে বলেই তাদের ধারণা।

করোনার শুরুর দিকে লোকজনের আবদ্ধ থাকার কারণে অপরাধ কমেছিল। অপরাধ সংঘটনের বড় কারণ অভাব, সেটা কিন্তু কমেনি। সামনের দিনে সেটাই বড় সমস্যা হয়ে দেখা দেবে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারীদের সজাগ থাকতে হবে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা