kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ৩ ডিসেম্বর ২০২০। ১৭ রবিউস সানি ১৪৪২

চীন ছাড়ছে বহু প্রতিষ্ঠান

এসব বিনিয়োগ আকর্ষণে উদ্যোগ নিন

৩০ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




চীন ছাড়ছে বহু প্রতিষ্ঠান

চীনে ক্রমেই মজুরিসহ উৎপাদন ব্যয় বাড়তে থাকায় সেখান থেকে বহুজাতিক কম্পানিগুলো তাদের বিনিয়োগ অন্য দেশে স্থানান্তর করছিল বা করার পরিকল্পনা করছিল। সম্প্রতি চীন-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যবিরোধ তীব্র হওয়ায় এই স্থানান্তর প্রক্রিয়াও গতি পেয়েছে। অন্যদিকে চীন থেকে স্থানান্তরিত বিনিয়োগ নিজ দেশে নেওয়ার প্রতিযোগিতায় নেমেছে ভিয়েতনাম, ভারত, ইন্দোনেশিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশ। বাংলাদেশও এই বিনিয়োগ আকর্ষণের চেষ্টা করছে। কিন্তু বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রতিযোগিতার সক্ষমতায় বাংলাদেশ অনেকটাই পিছিয়ে আছে। আর তার অন্যতম কারণ নীতি সহায়তায় পিছিয়ে থাকা, দেশি ও বিদেশি কম্পানির ক্ষেত্রে করপোরেট কর বৈষম্য, অবকাঠামোর দিক থেকে পিছিয়ে থাকা ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা। সরকার কয়েক বছর ধরেই পরিস্থিতির উন্নয়নে সচেষ্ট। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সে চেষ্টায় সমন্বয়ের অভাব আছে, পরিকল্পিত উদ্যোগেরও ঘাটতি আছে।

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অনেক দিক থেকেই গতি সঞ্চারিত হয়েছে। বিশ্ব অর্থনীতিতে এখন বাংলাদেশের অবস্থান ৪২তম। ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বে মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির ভিত্তিতে বাংলাদেশ হবে ২৬তম অর্থনীতির দেশ। সেটা অর্জনের প্রধানতম শর্ত হচ্ছে, দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ আরো দ্রুত এগিয়ে নেওয়া। বাংলাদেশে বিনিয়োগের বাধা অনেক। সরকারও তা জানে। বিশ্বব্যাংকের সহজে ব্যবসা করার সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ১৮৯টি দেশের মধ্যে ১৬৮তম। ভারত ৭৭, ইন্দোনেশিয়া ৭৩, মালয়েশিয়া ১৫, ভিয়েতনাম ৬৯ ও থাইল্যান্ড ২৭তম অবস্থানে রয়েছে। মিয়ানমারও বাংলাদেশের চেয়ে তিন ধাপ এগিয়ে আছে। এই সূচকে উন্নতি করার জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে একটি হচ্ছে ওয়ানস্টপ সার্ভিস আইন, কিন্তু পাঁচ বছরেও আইন কার্যকরে বড় অগ্রগতি নেই। বিনিয়োগের জন্য উপযুক্ত জমি পাওয়া ছিল একটি বড় সমস্যা। এই সমস্যার সমাধানে সরকার ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু করে, কিন্তু কয়েকটি অঞ্চল চালু হলেও বড় অগ্রগতি নেই। বিনিয়োগ-অবকাঠামো উন্নয়নের দিক থেকেও আমরা পিছিয়ে আছি। বিনিয়োগকারীদের দক্ষ জনবল দরকার। আমাদের জনবল মোটা দাগে অদক্ষ। সব মিলিয়ে প্রতিযোগিতার সক্ষমতায় আমরা পিছিয়ে আছি।

বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর সঙ্গে তাল মিলিয়ে নীতিমালা করতে হবে। বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত না হওয়ার কারণগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত তা দূর করার উদ্যোগ নিতে হবে। বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, যেকোনো মূল্যে তা কাজে লাগাতে হবে।

 

মন্তব্য