kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৭ শ্রাবণ ১৪২৭। ১১ আগস্ট ২০২০ । ২০ জিলহজ ১৪৪১

জলাবদ্ধতা ও যানজট বাড়ছে

ইস্টার্ন বাইপাস প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়িত হোক

২৮ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




জলাবদ্ধতা ও যানজট বাড়ছে

প্রতিবছর বর্ষার সময় আমরা দেখি রাজধানী ঢাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। বর্ষায় বন্যার শঙ্কা তো সব সময় থাকে। আবার কোনো কোনো সময় জলাবদ্ধতার কারণে বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হয়। এটি সবারই জানা যে রাজধানীর ৪৬টির মধ্যে মাত্র ২৬টি খাল কোনো রকমে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছে। ঢাকার চারপাশের নদীগুলোর অবস্থাও খুব ভালো নয়। দখল, দূষণ ও ভরাট হয়ে সেগুলোও এখন মৃতপ্রায়। ফলে প্রতিবছর বর্ষায় নগরীর জলাবদ্ধতা প্রায় স্থায়ী রূপ নেয়। সামান্য বৃষ্টিতেও রাজধানী প্রায় অচল হয়ে পড়ে। এবারও ঢাকার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতির কোনো সুখবর নেই। চারপাশের নদ-নদীর পানি বিপত্সীমার ওপরে উঠছে। এত আতঙ্কিত হওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে নিষ্কাশনব্যবস্থা। আগে ঢাকার পানি নর্দমা ও বক্স কালভার্ট হয়ে খালের মাধ্যমে প্রবাহিত হতো নদীতে, যা এখন হচ্ছে না। উল্টো স্লুইস গেট খুলে দেওয়ায় ঢাকায় ঢুকছে নদীর পানি। কয়েক দিন আগেই বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গিয়েছিল রাজধানীর বেশির ভাগ সড়ক ও অলিগলি। এই পরিস্থিতিতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের প্রয়োজনীয়তা নতুন করে প্রতীয়মান হয়েছে সবার কাছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকা শহরের বর্তমান অবকাঠামোতে প্রতিদিন মাত্র ৪০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি নিষ্কাশন করা যায়। কিন্তু কয়েক দিন আগে ১৮৩ মিলিমিটার বা গড়ে ৬০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হওয়ায় ঢাকার রাস্তাঘাট তলিয়ে গিয়েছিল। এ ছাড়া বালু, তুরাগ, বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্যা নদীর উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে স্লুইস গেট বন্ধ করে পাম্প চালু রেখেছে ঢাকা ওয়াসা। বাঁধ দিয়ে বালু ও তুরাগ নদের পানি ঠেকানো না গেলে বন্যা ও জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধান করা কঠিন হয়ে যাবে বলেও মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

রাজধানী ঢাকার পশ্চিমাঞ্চলে একটি বাঁধ রয়েছে। ফলে ওই দিক দিয়ে বন্যার পানি শহরে ঢুকতে পারে না। আশির দশকে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ হিসেবে তৈরি করা হয় আব্দুল্লাহপুর থেকে মিটফোর্ড পর্যন্ত এই বেড়িবাঁধ। পরবর্তী সময়ে এটি হয়ে ওঠে ব্যস্ত একটি সড়ক। কয়েক দশক ধরে বারবার আশ্বাসের পরও ঢাকার পূর্ব দিকের ‘ইস্টার্ন বাইপাস’ তৈরি হয়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইস্টার্ন বাইপাস সড়ক নির্মিত হলে পুরো পূর্ব ঢাকা বন্যা ও জলাবদ্ধতামুক্ত হওয়ার পাশাপাশি কমবে মূল শহরের যানজট। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বর্ষায় নদীর পানি ঢাকায় প্রবেশ করতে পারবে না। একই সঙ্গে নদীর পানির উচ্চতা বাড়লেও ঢাকার পানি তিনটি পাম্প স্টেশনের মাধ্যমে সেচে নদীতে ফেলা হবে। ফলে ঢাকার জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান মিলবে। ঢাকাকে গতিশীল করতে ও জলাবদ্ধতা দূর করতে ইস্টার্ন বাইপাসের কোনো বিকল্প নেই। প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়িত হবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা