kalerkantho

বুধবার । ২১ শ্রাবণ ১৪২৭। ৫ আগস্ট  ২০২০। ১৪ জিলহজ ১৪৪১

করোনা সনদ প্রাপ্তিতে সমস্যা

সরকারকে স্বচ্ছ ও আন্তরিক হতে হবে

২৭ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনা পরিস্থিতির ক্রমিক উন্নতি হচ্ছে; যদিও দুর্যোগকালের পুরো অবসান এখনো হয়নি। সীমিত পরিসরে বিমান চলাচল শুরু হয়েছে। এখন করোনা পরীক্ষা করে বিমানে ওঠা বাধ্যতামূলক। সব যাত্রীকেই নতুন করে এই পরীক্ষা করতে হবে। কিন্তু এর মধ্যেই করোনা পরীক্ষায় নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবী মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টরা আমরণ অনশন শুরু করেছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নতুন মহাপরিচালক দায়িত্বে বসার আগমুহূর্তে এই অনশন শুরু হয়েছে। এ কারণে শনিবার অনেক বিদেশগামী যাত্রীর করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট সময়মতো দেওয়া যায়নি। রিপোর্ট না থাকায় তাঁদের ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। তাঁদের অনেকেরই জরুরি ও গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছিল।

নাম প্রকাশ না করে একজন বিমানযাত্রী কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন, শুক্রবার সকাল ১১টায় বিদেশগামী হিসেবে রাজধানীর নিপসম সেন্টারে আরো অনেকের মতো তিনিও নমুনা দেন করোনা পরীক্ষার জন্য। শনিবার দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টার মধ্যে রিপোর্ট দেওয়ার কথা ছিল। ওই রিপোর্ট নিয়ে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় দুবাই রওনা হওয়ার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু রিপোর্ট না পাওয়ায় তিনি ওই ফ্লাইটে যেতে পারেননি। তাঁর মতো আরো অনেককে একই সমস্যায় পড়তে হয়েছে। প্রসঙ্গত, সরকার ২৩ জুলাই থেকে আকাশপথে বিদেশ গমনকারীদের জন্য কভিড-১৯ (নেগেটিভ) সনদ বাধ্যতামূলক করেছে। এ ব্যবস্থা অনুযায়ী বিমানযাত্রার ৭২ ঘণ্টা আগে কোনো নমুনা জমা নেওয়া হবে না এবং ২৪ ঘণ্টা আগে রিপোর্ট ডেলিভারির ব্যবস্থা করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী যেসব বাংলাদেশি যাত্রী আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে বিদেশে যাবেন তাঁদের বিমানযাত্রার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নির্ধারিত ১৬টি হাসপাতাল, ক্লিনিক বা পরীক্ষাগারে নমুনা দিয়ে যাত্রার আগে কভিড পরীক্ষার রিপোর্ট নিতে হবে। এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভূমিকা অস্পষ্ট।

করোনা পরীক্ষায় এমন পরিস্থিতি বিমান চলাচল খাতের জন্য বিপজ্জনক বলে মনে করেন বিমান চলাচল বিষয়ক বিশ্লেষকরা। কভিড-১৯ পরীক্ষার সিদ্ধান্ত হয়েছে; কিন্তু পরীক্ষার ব্যবস্থা অপ্রতুল। প্রতিদিন দেড় থেকে দুই হাজার যাত্রী ঢাকা থেকে বিদেশ যান। অল্পসংখ্যক সেন্টার দিয়ে তাঁদের পরীক্ষা করা খুব কঠিন। এর মধ্যেই যদি অনশন বা এজাতীয় সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে তা সম্ভবই নয়। সেটাই দেখা গেল শনিবার। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুমোদিত ৭০-৮০টি সেন্টার আছে। সবগুলোকেই কাজে লাগানোর চেষ্টা করা উচিত। সনদের অভাবে যাঁরা বিদেশে যেতে পারলেন না তাঁদের দায় কি সরকার নেবে? আমরা মনে করি, এ দায় সরকারের নেওয়া উচিত।

মন্তব্য