kalerkantho

বুধবার । ২৮ শ্রাবণ ১৪২৭। ১২ আগস্ট ২০২০ । ২১ জিলহজ ১৪৪১

করোনার অর্থনৈতিক প্রভাব

সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষায় মনোযোগ দিন

১৬ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনা সংক্রমণ মহাবিপর্যয় হয়ে দেখা দিয়েছে। শুধু স্বাস্থ্যঝুঁকি নয়, মানুষকে আর্থিক সংকটেও ফেলেছে করোনা। মানুষের আয় কমেছে, অনেকে বেকার হয়েছে, অনেকে পেশাটাই হারিয়েছে। কিন্তু সংসার খরচ কমেনি, বরং অনেক ক্ষেত্রে বেড়েছে। মাস শেষে বাড়িভাড়া, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বেতন, চিকিৎসা খরচ, পানি ও বিদ্যুতের খরচ পরিশোধ করতে হচ্ছে। খাদ্যপণ্যের দাম কমবেশি বেড়েছে। ব্যবসায় লোকসান হলেও কর-ভ্যাট বা শুল্ক দিতে হচ্ছে। প্রায় ক্ষেত্রেই যাতায়াতের খরচ বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। সুরক্ষাসামগ্রী বাবদ নিয়মিত খরচ আছে। অনেকের পরিবার-পরিজন নিয়ে টিকে থাকা দায় হয়ে পড়েছে। বাকি শোধ করতে না পারায় পাড়া-মহল্লার দোকানে যেতে পারছে না অনেকে। বিপুলসংখ্যক মানুষ তীব্র আর্থিক সংকটে রয়েছে। টিকতে না পেরে শহর ছেড়ে গ্রামে চলে গেছে অনেকে। সেখানেও কাজের অভাব। দিশাহারা মানুষ উত্তরণের উপায় খুঁজে পাচ্ছে না।

অর্থনীতির বিশ্লেষকরা বলছেন, করোনার কারণে অনেক মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যসীমায় নেমেছে। করোনা সংকট দীর্ঘ হলে দরিদ্রের সংখ্যা আরো বাড়বে। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, শুধু করোনার কারণে ১৫ শতাংশ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যসীমায় নেমেছে। সঞ্চয় যা ছিল তা শেষ হয়ে গেছে গত দু-তিন মাসে। এখন তাদের দিশাহারা অবস্থা। করোনা সংক্রমণের শুরুতে সরকার কিছু সহায়তা করেছিল। এখন তা আগের মতো নেই। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মী ছাঁটাই চলছে। বাড়িবাড়ার মতো বড় ব্যয় অনেকের জন্য কষ্টকর। আবার স্বাস্থ্যবিষয়ক খরচ ও খাদ্যব্যয় বেড়েছে। সাধারণ মানুষের জন্য সীমিত আয় বা সঞ্চয়ের ওপর নির্ভর করে বেঁচে থাকা কঠিন। পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের গবেষণায় বলা হয়েছে, করোনার কারণে আয় কমে যাওয়ায় বা আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নতুন করে এক থেকে দেড় কোটি পরিবার ‘গরিব’ হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য, অনেকে সংসার চালাতে সঞ্চয়ে হাত দিয়েছে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এ বছরের গত কয়েক মাসে সঞ্চয়পত্র কেনার হার বাড়েনি, বরং ভাঙানোর হার প্রতি মাসে বাড়ছে। করোনাজনিত আর্থিক সংকটে টিকতে না পেরে শহরের ১৫-২০ শতাংশ মানুষ গ্রামে চলে গেছে।

করোনা সংক্রমণের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাব জাতীয় অর্থনীতিতে পড়েছে। এ প্রভাব নেতিবাচক। ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দাদশা। ছোট ও মাঝারি অনেক ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেছে। বড় প্রতিষ্ঠানেও টান পড়েছে। অর্থনৈতিক বিষয়টিকে নিবিড় বিবেচনায় নিতে হবে সরকারকে। সামাজিক স্থিতি-শৃঙ্খলার জন্যই তা বিবেচনায় নিতে হবে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা