kalerkantho

শুক্রবার । ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭। ১৪ আগস্ট ২০২০ । ২৩ জিলহজ ১৪৪১

করোনাভাইরাস সংক্রমণ

প্রতিরোধে সমন্বিত পদক্ষেপ জরুরি

১৪ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনাভাইরাস সংক্রমণ

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর থেকেই সরকার সংক্রমণ প্রতিরোধে সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। করোনা প্রতিরোধে ৩১ দফা নির্দেশনা দিয়েছিল; কিন্তু সংক্রমণ প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়নি। পরীক্ষা যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। সুনির্দিষ্ট কোনো ওষুধ বা প্রতিষেধক না থাকায় করোনার বিরুদ্ধে কোনো প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে সামনে চলে এসেছে জীবন ও জীবিকার প্রশ্ন। করোনার অভিঘাত সমাজের প্রায় সব স্তরেই পড়েছে। ফলে বাধ্য হয়েই সীমিত আকারে হলেও জীবনযাত্রা উন্মুক্ত করে দিতে হয়েছে সরকারকে। বর্তমানে যেভাবে সীমিত পরিসরে অফিস চলছে, তা আগামী ৩ আগস্ট পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণপরিবহনও চালু থাকবে। পাশাপাশি সবার মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক বলেও জানানো হয়।

করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে সুনির্দিষ্ট কোনো ওষুধ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। মাস্ক পরা এবং সামাজিক ও শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ জনসমাগম এড়িয়ে চলাই এখন কভিড-১৯ সংক্রমণ প্রতিরোধের একমাত্র উপায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই সময়ে মাস্ক ছাড়া ঘরের বাইরে বের না হতে প্রধানমন্ত্রীও নির্দেশনা দিয়েছেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, নির্ধারিত সময়ের পর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা, শুধু জরুরি প্রয়োজনে বিদেশ যাওয়া, হাট-বাজার, রেস্টুরেন্ট-দোকানপাট পরিচালনার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ আরো সব সতর্কতামূলক নির্দেশনা প্রচারে কমতি নেই। কিন্তু এসব কি মানা হচ্ছে? মেনে চলার ক্ষেত্রে কারো কোনো আগ্রহ আছে বলেও মনে হয় না। অথচ ২০১৮ সালের সংক্রামক ব্যাধি আইনের আওতায় এখন ঘরের বাইরে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক। না মানলে পরিষ্কারভাবেই শাস্তির বিধান রয়েছে। একই আইনের আওতায় শারীরিক দূরত্ব না মানা বা সরকার নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি না মানলেও শাস্তির কথা বলা আছে। কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবরে বলা হচ্ছে অন্তত ছয়টি মন্ত্রণালয়ের সমন্বিতভাবে এই আইন বাস্তবায়নে পরিবেশ সৃষ্টি ও প্রয়োগ করার কথা। করোনা মোকাবেলায় গঠিত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটিও মনে করছে, সেই দায়িত্ব পালনে কমবেশি সবাই শৈথিল্য দেখাচ্ছে। কমপক্ষে ছয়টি মন্ত্রণালয়ের শৈথিল্য ও সমন্বয়হীনতাকে চিহ্নিত করে জাতীয় পরামর্শক কমিটির বিশেষজ্ঞ সদস্যরা মনে করছেন, গুরুত্বপূর্ণ এই ছয়টি মন্ত্রণালয়ের নানা ধরনের দায়িত্বহীনতা, সমন্বয়ের ঘাটতি ও শৈথিল্যের পরিণতি এখন দেশের মানুষকে ভোগ করতে হচ্ছে। কারণ দেশে সংক্রমণ প্রতিরোধে শুধু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় একা কাজ করলে চলবে না, বরং মাঠ পর্যায়ে অনেক কাজ বাস্তবায়নের দায়িত্ব অন্যান্য মন্ত্রণালয়েরও।

মাঠ পর্যায়ে সংক্রমণ প্রতিরোধ, এলাকাভিত্তিক সামাজিক সংক্রমণ রোধ, বাণিজ্যিক পরিসর সীমিত রাখাসহ আসন্ন ঈদুল আজহায় স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের এখনই সময়। আমরা আশা করব, সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত পদক্ষেপে বাংলাদেশ করোনামুক্ত হবে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা