kalerkantho

সোমবার । ২৬ শ্রাবণ ১৪২৭। ১০ আগস্ট ২০২০ । ১৯ জিলহজ ১৪৪১

করোনায় উচ্চশিক্ষা

শিক্ষার্থীদের ইন্টারনেট নিশ্চিত করুন

১২ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



দেশে কভিড-১৯ সংক্রমণ দেখা দেওয়ার পর গত ১৭ মার্চ থেকে সারা দেশের সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। আগামী ৬ আগস্ট পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা আছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় দেখা দিয়েছে সেশনজটের শঙ্কা। এ অবস্থায় দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অনলাইন ক্লাস শুরু করলেও সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি। তবে প্রাথমিক থেকে দশম শ্রেণির ক্লাস সংসদ টিভিতে দেখিয়ে বাড়ির কাজ দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পর শিক্ষার্থীরা এসব বাড়ির কাজ জমা দেওয়ার পর শিক্ষকরা তা মূল্যায়ন করবেন। সংসদ টিভির পাশাপাশি ইউটিউব ও ফেসবুকের বিভিন্ন পেজে এসব ক্লাস আপলোড করা হচ্ছে। বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠান নিজেদের মতো করে ভার্চুয়াল ক্লাস নিচ্ছে। সম্প্রতি এক ভার্চুয়াল আলোচনা অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী নিজেও এ বিষয়ে আলোকপাত করেছেন। তিনি বলেছেন, প্রতিটি সংকটই আমাদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করে দেয়। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চাহিদা অনুযায়ী আমাদের জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তর করতে হলে তথ্য-প্রযুক্তিতে দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে।

এর মধ্যে লেখাপড়া চালিয়ে নিতে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। বেশ কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও এতে অংশগ্রহণ করার ক্ষেত্রে অনেক শিক্ষার্থীর পক্ষেই ইন্টারনেটের ব্যয় বহন করা সম্ভব হচ্ছে না। এ জন্য বিশিষ্টজনরাও শিক্ষার্থীদের জন্য বিনা মূল্যে ইন্টারনেট অথবা স্বল্পমূল্যে ইন্টারনেট প্যাকেজ দেওয়ার কথা বলছেন। তাঁরা বলছেন, শিক্ষার বিস্তার এবং মেধাবী জাতি তৈরিতে ইন্টারনেটকে ব্যয় নয়, রাষ্ট্রের বড় বিনিয়োগ হিসেবে দেখতে হবে। তাঁরা মনে করেন, ভবিষ্যৎ শিক্ষার ক্ষেত্র শুধু শ্রেণিকক্ষকেন্দ্রিক হবে না। প্রচলিত চক-ডাস্টার পদ্ধতির সঙ্গে শ্রেণিকক্ষ ব্যবস্থা ডিজিটাল করতে হবে। অন্যথায় চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের জন্য মানবসম্পদ তৈরি করা সম্ভব হবে না; যদিও নতুন এই প্ল্যাটফর্মে এখনো কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। মোবাইল ফোন অপারেটররা ইন্টারনেটের ওপর বহাল ভ্যাট-ট্যাক্স, স্পেকট্রাম সংকটসহ নানা প্রতিকূলতার কথা বলছে।

আমরা মনে করি, এই সংকটকালে শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে ইন্টারনেট দেওয়াটা ব্যয় নয়, হবে বিনিয়োগ। রাষ্ট্রকেই এই বিনিয়োগে অগ্রসর ভূমিকা নিতে হবে।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা