kalerkantho

শুক্রবার । ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭। ১৪ আগস্ট ২০২০ । ২৩ জিলহজ ১৪৪১

সংসদে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

দুর্নীতিমুক্ত হোক বাংলাদেশ

১১ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




সংসদে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনের সমাপনী দিনে গত বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনার দাবি রাখে। খুব প্রাসঙ্গিকভাবেই তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ও সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের কথা। জনগণের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সরকার যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে, সে কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি। পাটকল বন্ধের প্রসঙ্গে বলেছেন, বস্ত্র-পাটকলগুলোর শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করা হবে এবং পাটকলগুলো আধুনিকায়ন করা হবে। তবে তাঁর এই সমাপনী বক্তব্যের সবচেয়ে তাত্পর্যপূর্ণ অংশ হচ্ছে দুর্নীতি প্রসঙ্গে তাঁর দার্ঢ্য উচ্চারণ। আবারও অন্যায় ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা স্পষ্ট করে ঘোষণা করে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা বলেছেন, ‘দুর্নীতি ও অনিয়মে জড়িতদের আমরা ধরে যাচ্ছি। দুর্নীতিবাজ কে কোন দলের সেটা বড় কথা নয়, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি, নেব। দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’ একই সঙ্গে আক্ষেপ করে তিনি বলেছেন, ‘চোর ধরে আমরাই যেন চোর হয়ে যাচ্ছি।’

আমরা যদি একটু পেছনের দিকে তাকাই তাহলে দেখতে পাই, ২০০১ সাল থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত সময়ে জার্মানির বার্লিনভিত্তিক আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের সিপিআই সূচকে সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ছিল প্রথম। ২০০৬ সালে দুর্নীতির ধারণা সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল তৃতীয়, ২০০৭ সালে সপ্তম, ২০০৮ সালে দশম, ২০০৯ সালে ১৩তম, ২০১০ সালে ১২তম, ২০১১ সালে ১৩তম, ২০১২ সালে ১৩তম, ২০১৩ সালে ১৬তম, ২০১৪ সালে ১৪তম, ২০১৫ সালে ১৩তম, ২০১৬ সালে ১৫তম, ২০১৭ সালে ১৭তম। দুর্নীতির ধারণা সূচক বা করাপশন পারসেপশন্স ইনডেক্স বা সিপিআই-২০১৯ সালে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বের ১৮০টি দেশের মধ্যে ১৪৬তম। এ বছর ২০১৮ সালের তুলনায় বাংলাদেশ তিন ধাপ এগিয়ে আসে।

সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জোরালো অবস্থান নেওয়া হয়েছে। দেওয়া হয়েছে শূন্য সহনশীলতার ঘোষণা। বিভিন্ন সময়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযান পরিচালিত হয়েছে। কিন্তু দেশ থেকে দুর্নীতি যে দূর করা যায়নি, তা মানতে হবে। অনেকের এমন অভিযোগও আছে যে দুর্নীতি প্রতিরোধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থাও গড়ে তোলা যায়নি। ফলে দুর্নীতি সমাজের নানা স্তরে ডালপালা বিস্তার করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, জবাবদিহির দুর্বল কাঠামোর সুযোগ নিয়েই দুর্নীতির ঘটনা ঘটে থাকে। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার উপায় কী? বিশেষজ্ঞদের মতে, বিষয়টি অনেকাংশেই নির্ভর করে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর। দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করতে হলে প্রথমেই রাজনৈতিক শুদ্ধাচার ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। সুশাসন প্রতিষ্ঠায় মনোযোগী হতে হবে। প্রধানমন্ত্রী সব সময় তাঁর অবস্থান জানিয়েছেন। আমাদের প্রত্যাশা শুদ্ধাচার ও সুশাসন দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা