kalerkantho

শুক্রবার । ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭। ১৪ আগস্ট ২০২০ । ২৩ জিলহজ ১৪৪১

বান্দরবানে ছয়জনকে হত্যা

পাহাড়ে সহিংসতা বন্ধ করতে হবে

৯ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বান্দরবানের এক গ্রামে ছয় ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। আহত হয়েছে চারজন। মঙ্গলবার ভোরের ওই ঘটনায় নিহত ও আহত ব্যক্তিরা সবাই পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (পিসিজেএসএস) এমএন লারমা গ্রুপের সদস্য। বান্দরবান সদর উপজেলা, রোয়াংছড়ি ও রাঙামাটির রাজস্থলীর সীমান্তবর্তী গ্রাম বাঘমারা বাজারপাড়ায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। ঘটনাটি সংশ্লিষ্ট এলাকা ও আশপাশে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

কালের কণ্ঠ’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহত ব্যক্তিরা হলো পিসিজেএসএসের (এমএন লারমা গ্রুপ) বান্দরবান শাখার সভাপতি রতন কান্তি তঞ্চঙ্গ্যা, সহসভাপতি প্রজীব চাকমা, ডেবিড বাবু, মিলন চাকমা, জয় ত্রিপুরা ও দীপেন ত্রিপুরা। এ ঘটনার একটি রাজনৈতিক মাত্রা আছে। যারাই ঘটিয়ে থাকুক, তাতে পাহাড়ে আরেক দফা রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। সেটা কিছুতেই মঙ্গলজনক হওয়ার কথা নয়। এরই মধ্যে আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল অধ্যুষিত বাঘমারাপাড়া, মনজয়পাড়া, রোয়াংছড়ির সোনাইছিপ্রুপাড়া, জামছড়িপাড়া, নাচালংপাড়াসহ আশপাশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

এমএন লারমা গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক উবা মং বলছেন, জনসংহতি সমিতির সন্তু লারমা গ্রুপ ঘটনাটি ঘটিয়েছে। আর জনসংহতি সমিতির সন্তু লারমা গ্রুপের সূত্র জানিয়েছে, এ ঘটনায় তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। নিহত ছয়জনের পাঁচজন খাগড়াছড়ি জেলার লোক। করোনাকালে তারা কী করে সেখানে পৌঁছাল সেটা একটা প্রশ্ন। তারা বলেছে, আরাকানের রাখাইনদের সংগঠন এএলপির (আরাকান লিবারেশন পার্টি) একটা দলছুট গ্রুপ পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় থাকে, স্থানীয়ভাবে যাদের ‘মগ পার্টি’ বলা হয়। তাদের একাংশ এমএন লারমা গ্রুপে যোগ দিয়েছিল। এ কারণে মগ পার্টির মূল অংশ তাদের ওপর ক্ষুব্ধ ছিল। সেই দ্বন্দ্বের কারণে ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে। তারাও এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছে।

জননিরাপত্তার স্বার্থে ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনী ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মোতায়েন করাই কিন্তু যথেষ্ট নয়। জনসংহতি সমিতির দুই পক্ষও তাদের বক্তব্য দিয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজ হবে ঘটনায় জড়িতদের পাকড়াও করা, তারা যে পক্ষেরই হোক। কারণ ঘটনাটি তুচ্ছ নয়। আগে চাঁদাবাজি ও এলাকার কর্তৃত্ব নিয়ে খুন ও অপহরণের ঘটনা ঘটলেও দিনের আলোয় অস্ত্র হাতে গ্রামে ঢুকে বেছে বেছে ছয়জনকে হত্যার ঘটনা এবারই প্রথম। তাই প্রতিশোধমূলক আরো সহিংসতা হতে পারে। অতএব সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সতর্ক থাকতে হবে। পাহাড়ের শান্তির জন্য সহিংসতা বন্ধ করতে হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা