kalerkantho

বুধবার । ২১ শ্রাবণ ১৪২৭। ৫ আগস্ট  ২০২০। ১৪ জিলহজ ১৪৪১

কাজ শুরু করেনি বিবিএস

জরুরি ভিত্তিতে উদ্যোগ নিন

৭ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনা পরিস্থিতিতে অন্তত ২০টি দেশের পরিসংখ্যান ব্যুরো নিজেদের সরকারকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করছে। কিন্তু বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো তা পারেনি। প্রথম করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হওয়া থেকে এ পর্যন্ত প্রায় চার মাসে বাংলাদেশ ব্যুরো অব স্ট্যাটিস্টিকস (বিবিএস) সরকারকে করোনাবিষয়ক কোনো তথ্য দিতে পারেনি। তাৎক্ষণিক কোনো জরিপও তারা করেনি।

বিবিএস দেশে কত শ্রমশক্তি আছে, কত মানুষ কর্মক্ষম, কত মানুষ বেকার—এসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেয়। কিন্তু করোনা প্রাদুর্ভাবের সময়ে কত মানুষ কর্মহীন হয়েছে সে বিষয়ে কোনো জরিপ করেনি। করোনার সময়ে মানুষের স্বাস্থ্যগত বিষয় নিয়েও বিবিএস কোনো কাজ করেনি। জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার, মূল্যস্ফীতির হার সম্পর্কেও হালনাগাদ তথ্য তারা দিতে পারেনি। করোনার সময়ে দরিদ্র পরিবারগুলোকে দুই হাজার ৫০০ টাকা করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সরকার। কিন্তু কাজটি করতে গিয়ে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। কারণ সরকারের হাতে দরিদ্র মানুষের তালিকা ছিল না। ২০১৩ সালে সারা দেশে ধনী-দরিদ্রের তালিকা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সে কাজ এখন পর্যন্ত শেষ করতে পারেনি বিবিএস। তারা তালিকাটি করতে পারলে ত্রাণ নিয়ে এমন বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হতো না। বিবিএস যদিও বলেছে, করোনায় ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে কোনো জরিপ করার নির্দেশনা তারা পায়নি।

বেশ কিছু তথ্য বিবিএস থেকে না পাওয়া গেলেও বেসরকারিভাবে পাওয়া গেছে। জানা যায়, করোনার প্রভাবে দেশে ৭০ শতাংশ দরিদ্র মানুষের আয় বন্ধ হয়ে গেছে। নতুন করে এক কোটি ৬৪ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমেছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা সংস্থা (বিআইডিএস)। সংস্থাটি বলেছে, মহামারির আগে দেশে দারিদ্র্যের হার ছিল ২০ শতাংশ, এখন ২৯ শতাংশ। করোনার কারণে দারিদ্র্যের হার বেড়ে ৩৫ শতাংশ হয়েছে বলে জানিয়েছে সিপিডি। সংকটকালে রাষ্ট্রীয় সংস্থা জরুরি তথ্য দিয়ে রাষ্ট্রকে তথা সরকারকে সহায়তা করে। কিন্তু বিবিএস কিছুই করেনি। নাকি তাদের দিয়ে কিছুই করাতে চায়নি সরকার? সরকার কি চায় না সঠিক তথ্য বেরিয়ে আসুক, নাকি অন্য কোনো সমস্যা আছে? বিবিএসের কি উচিত ছিল না নিজেদের দিক থেকে উদ্যোগ নেওয়া?

যাই হোক, আপাতত কিছু সুখবরও আছে। করোনা সংক্রমণের পিক টাইমেই রয়েছি আমরা, তেমন আভাস মিলছে। কয়েক দিন অপেক্ষা করতে হবে নিম্নগতি দেখার জন্য। তাহলে নিশ্চিত হওয়া যাবে আমরা পিকে ছিলাম। এরপর সংক্রমণ হার, মৃত্যুহার কমতে থাকবে। আমাদের গড় মৃত্যুহারও কম—১.২৬ শতাংশ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশের পরিস্থিতি উন্নতির দিকে। এ তথ্যগুলো বিবিএসও দিতে পারত। কেন সংস্থাটি তা পারেনি তার ব্যাখ্যা সরকারের দেওয়া উচিত।

মন্তব্য