kalerkantho

বুধবার । ২১ শ্রাবণ ১৪২৭। ৫ আগস্ট  ২০২০। ১৪ জিলহজ ১৪৪১

অসন্তোষ থেকে অশান্তির শঙ্কা

বিকল্প কর্মসংস্থান নিয়ে ভাবতে হবে

৪ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




অসন্তোষ থেকে অশান্তির শঙ্কা

বিশ্ব অর্থনীতিকে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে করোনাভাইরাস। বাংলাদেশেও অসংখ্য মানুষ এরই মধ্যে কর্মহীন হয়ে পড়েছে। কাজ হারানোর আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে আরো অনেক মানুষ। বিশেষ করে, অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কর্মী ছাঁটাই শুরু করায় হঠাৎ করে কর্মহীন হয়ে পড়ছে অনেকে। রাজধানীজুড়ে ফুটপাতে ব্যবসা করা কয়েক লাখ হকার সেভাবে ক্রেতা না পাওয়ায় সংকটে আছে। সড়কে গণপরিবহন নামলেও যাত্রী স্বল্পতায় খরচ উঠছে না। রাজধানীতে বেসরকারি হাই স্কুল ও কলেজ, কিন্ডারগার্টেন এবং কোচিং সেন্টারে তিন লাখের বেশি শিক্ষক-কর্মচারীর বেশির ভাগের বেতন বন্ধ। অনেকে পেশা বদল করে টিকে থাকার চেষ্টা করছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারি ও এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের সমস্যা না হলেও ঘোর বিপদে পড়েছেন ১০ লাখ বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী। বেতনের সঙ্গে প্রাইভেট টিউশনিও বন্ধ। ফলে সংকট আরো বেড়েছে। উপায় না পেয়ে অনেক উদ্যোক্তা স্কুল বিক্রি করে দিতে চাচ্ছেন। এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কয়েক লাখ অস্থায়ী ও খণ্ডকালীন শিক্ষক বেতন না পেয়ে মানবেতর জীবন থেকে রক্ষায় অন্য পেশায় যাচ্ছেন। অন্যদিকে করোনাকালে পারিবারিক কলহ ও সামাজিক অপরাধের ঘটনা বেড়েছে। বেতন-ভাতার দাবিতে রাস্তায় নামছে পোশাক শ্রমিকরা। সার্বিক অবস্থা বিশ্লেষণ করে অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি এমন থাকলে সামাজিক অপরাধ আরো বাড়বে। তাঁদের মতে, অভাবী মানুষের জমানো টাকা শেষ হয়ে গেলে তারা আয়-রোজগারের জন্য আরো মরিয়া হয়ে উঠলে তাতে পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার আশঙ্কাই বেশি। গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর বলছে, সারা দেশে চুরি-ডাকাতির ঘটনাও কিছুটা বেড়েছে। পুলিশের আশঙ্কা, বর্তমান পরিস্থিতিতে চলমান অপরাধের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে নতুন নতুন অপরাধ। অনেক পরিবহন শ্রমিক দিনে গাড়িতে কাজ করে, রাতে ছিনতাই করছে বলেও পুলিশের কাছে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, এরই মধ্যে রাজধানীতে বিভিন্ন ধরনের আন্দোলনের আঁচ পেয়েছে পুলিশ।

অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, করোনায় অর্থনৈতিক সংকটের কারণে সম্পত্তিসংক্রান্ত অপরাধ ও প্রতারণা বাড়তে পারে। সে জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অপরাধ দমনের বিষয়ে এখন থেকেই সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। তবে সবার আগে এগিয়ে আসতে হবে সরকারকে। অর্থনৈতিক ও সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। আর এ জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। অর্থনীতিবিদরা সবুজ অর্থনীতি ও নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টির বিষয়ে বরাবরই গুরুত্ব দিয়ে আসছেন। আমাদের হাতে সময় বেশি নেই। উৎপাদনশীল অর্থনীতিতে কিভাবে মানুষকে সম্পৃক্ত করা যায়, তা নিয়ে এখন থেকেই চিন্তাভাবনা শুরু করা দরকার বলে আমরা মনে করি।

মন্তব্য