kalerkantho

বুধবার । ৩১ আষাঢ় ১৪২৭। ১৫ জুলাই ২০২০। ২৩ জিলকদ ১৪৪১

এক দিনে রেকর্ড মৃত্যু

কঠোর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে

১ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



করোনাভাইরাস সংক্রমণ ও মৃত্যু এখন রূঢ় বাস্তবতা। সংক্রমণ যে বাড়ছে তা মোটামুটি সবারই জানা। কিন্তু পরীক্ষার অভাবে তা শুধু আন্দাজেই সীমাবদ্ধ ছিল অনেক দিন পর্যন্ত। এখন পরীক্ষার পরিধি ও শনাক্তের সংখ্যা বাড়ছে। প্রতিদিনই করোনায় মৃতের সংখ্যাসহ সুস্থ হওয়ার হালনাগাদ তথ্য জানা যাচ্ছে। মৃত্যুর সংখ্যা এত দিন কমবেশি চল্লিশের ঘরে ছিল। তবে মঙ্গলবার পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে ৬৪ জনের। সংখ্যাটি আগের কয়েক দিনের গড় সংখ্যার চেয়ে বেশি। অন্যদিকে সোমবার সর্বোচ্চ চার হাজার ১৪ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এর আগে গত ১৭ জুন সর্বোচ্চ শনাক্ত হয়েছিল চার হাজার আটজন। এখন পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয়েছে এক লাখ ৪৫ হাজার ৪৮৩ জনের। শনাক্তের সংখ্যা বৃদ্ধিতে মানুষ চিন্তিত ও শঙ্কিত।

আইইডিসিআরের হিসাবে মঙ্গলবার ২৪ ঘণ্টায় আরো এক হাজার ৮৪৪ জন রোগী সুস্থ হয়েছে। মোট সুস্থ ব্যক্তির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৯ হাজার ৬২৪। সুস্থ হওয়া ব্যক্তির সংখ্যাও জানার প্রয়োজন রয়েছে। কারণ এ তথ্য মানুষকে আশান্বিত ও উজ্জীবিত করে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত অনলাইন বুলেটিনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণকারী ৬৪ জনের মধ্যে ৫২ জন পুরুষ এবং ১২ জন নারী। ঢাকা বিভাগে মারা গেছে ৩১ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১২ জন, খুলনা ও রাজশাহী বিভাগে সাতজন করে, সিলেট, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগে দুজন করে মারা গেছে।

গত দুই দিনে শনাক্তের সংখ্যা বলছে রোগটি কী মাত্রায় ছড়াতে পারে তা ধারণা করতে পারেননি স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। কোন পথে কার মাধ্যমে রোগ ছড়াতে পারে সে বিষয়ক ধারণা ও ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি ছিল। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কাজের সমন্বয়ের অভাবও ছিল। এখন পরীক্ষা করতে গিয়ে বোঝা যাচ্ছে, বিস্তৃত পরিসরেই করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঘটেছে। মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি এ কথাই বলে। শুভ দিক হচ্ছে, সংক্রমণের মাত্রার নিরিখে মৃত্যুহার এখন পর্যন্ত কম আছে। এখন স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাজ হওয়া উচিত সংক্রমণের সম্ভাব্য ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করা এবং সেখানে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া। এলাকাভিত্তিক লকডাউন পরিস্থিতির পর্যালোচনাও জরুরি। প্রতিরোধই উত্তম—এটাই করোনাবিষয়ক নীতি হওয়া উচিত।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা