kalerkantho

শুক্রবার। ২৬ আষাঢ় ১৪২৭। ১০ জুলাই ২০২০। ১৮ জিলকদ ১৪৪১

রাখাইনে সেনা অভিযান

বিশ্বসম্প্রদায়কে তৎপর হতে হবে

৩০ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনাভাইরাসের সংক্রমণজনিত মহামারি মোকাবেলায় ব্যস্ত রয়েছে সারা বিশ্ব। সে সময় মিয়ানমার রাখাইন রাজ্যে ‘নির্মূল অভিযান’ চালাচ্ছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশেরও চিন্তিত হওয়ার কারণ রয়েছে। কারণ রাখাইনে সামরিক অভিযান হলে তার অভিঘাত এ দেশে পড়ে। পরিস্থিতি দেখেশুনে জাতিসংঘ রাখাইনে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা করছে। তারা রাখাইনের বেসামরিক জনগণের সুরক্ষায় জরুরি উদ্যোগ নিতে বলেছে। দেশটিতে যেসব পশ্চিমা কূটনৈতিক মিশন রয়েছে তারাও রাখাইন রাজ্যে নতুন করে সেনা অভিযানের খবরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

কয়েক দিন ধরেই রাখাইন রাজ্যে সেনা অভিযানের খবর প্রকাশিত হচ্ছে কালের কণ্ঠসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে। মিয়ানমারের বাহিনী এ অভিযান চালাচ্ছে বিদ্রোহী আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে। অভিযানের প্রয়োজনে স্থানীয় প্রায় ১০ হাজার বাসিন্দাকে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে উদ্বেগ জানিয়েছে যুক্তরাজ্যও। মিয়ানমারকে আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতের (আইসিজে) নির্দেশনা মেনে চলার এবং মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীকে বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে তারা। প্রসঙ্গত, মিয়ানমার বাহিনীর নিপীড়নমূলক অভিযানের কারণে ২০১৬-১৭ সালে রাখাইন রাজ্য থেকে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। জাতিসংঘ রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে জাতিগত নিধনযজ্ঞসহ বিভিন্ন গুরুতর অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ তুলেছে মিয়ানমার বাহিনীর বিরুদ্ধে। গণহত্যাবিরোধী সনদ লঙ্ঘনের অভিযোগে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মামলাও চলছে আইসিজেতে।

মিয়ানমার বাহিনীর অভিযানের কারণে রাখাইন রাজ্যে বাস্তুচ্যুতি আরো বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ২০১৬ ও ২০১৭ সালে মিয়ানমার বাহিনীর অভিযানকে ‘ক্লিয়ারেন্স’ (নির্মূল) অভিযান অভিহিত করা হয়েছিল। এবার আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে যে অভিযান চালানো হচ্ছে তার নামও ‘নির্মূল অভিযান’। মিয়ানমারে এখন চার থেকে পাঁচ লাখ রোহিঙ্গা অবশিষ্ট আছে। আন্তর্জাতিক উদ্বেগ ও চাপ সত্ত্বেও মিয়ানমার সরকার এখনো তাদের নাগরিক হিসেবে স্বীকার করছে না। তাদের চলাফেরায়ও নানা বিধি-নিষেধ আছে। কিছু দিন পরপর রোহিঙ্গারা রাখাইন রাজ্য ছেড়ে বাংলাদেশে বা অন্যত্র আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করে। সংঘাত ও অস্থিরতার কারণে তারা রাখাইন রাজ্যে নিরাপদ বোধ করে না। মানবপাচারকারী বিভিন্ন চক্রও সক্রিয় রয়েছে। রোহিঙ্গাদের জন্য সত্যি এক মর্মান্তিক পরিস্থিতি বিরাজ করছে সেখানে।

জাতিসংঘ বলেছে, মিয়ানমারে চলমান সংঘাতে ১০ হাজারের বেশি বেসামরিক নাগরিক হয় এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে অথবা আটকা পড়েছে। উভয় পক্ষকে বেসামরিক জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। আঞ্চলিক পর্যায়ে এ সংঘাত নিরসনে বাংলাদেশ, ভারত, চীনসহ প্রতিবেশীদেরও কূটনৈতিকভাবে তৎপর হতে হবে। সংঘাত কোনো কল্যাণ বয়ে আনে না।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা