kalerkantho

রবিবার । ২৮ আষাঢ় ১৪২৭। ১২ জুলাই ২০২০। ২০ জিলকদ ১৪৪১

এই অবস্থায় শিশু ভর্তি পরীক্ষা!

শিক্ষার্থীদের ঝুঁকিমুক্ত রাখুন

২৯ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরুর পর গত মার্চ মাসের ১৮ তারিখ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো ভাইরাসটির সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপদ রাখা। তখন থেকে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান—স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রয়েছে। আগস্ট মাসের আগে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলবে না—সরকারের মনোভাব এমনই। পরিস্থিতি ভরসাযোগ্য না হলে বন্ধ রাখার মেয়াদ আরো বাড়তে পারে। তবে শিক্ষা কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ হয়নি। অনলাইনে ক্লাস চলছে, যদিও তা শিক্ষাক্রম অনুসারে পর্যাপ্ত নয়। অনলাইনে শিক্ষাসংক্রান্ত আরো কিছু কাজ চলছে, যেমন মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রম। করোনা পরিস্থিতির কারণে শিক্ষার্থীসংক্রান্ত দাপ্তরিক কিছু কাজও অনলাইনে হচ্ছে। এসবেরই উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীদের ঝুঁকিমুক্ত রাখা।

শিক্ষাঙ্গনের এ পরিস্থিতি প্রায় সব অভিভাবক মেনে নিয়েছেন। শিশু-কিশোর-তরুণদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা ভেবে শিক্ষক-অভিভাবক সবাই তা মেনে নিয়েছেন। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিহত করায় এর ইতিবাচক ভূমিকাও রয়েছে। কিন্তু এমন পরিস্থিতির মধ্যেই ঘটানো হয়েছে এমন এক ঘটনা, যা নিয়ে শিক্ষক, অভিভাবক ও নাগরিকমহল চিন্তিত হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীদের যখন যথাসম্ভব নিরাপদ রাখার চেষ্টা চলছে তখন সরাসরি অংশগ্রহণে শিশুদের ভর্তি পরীক্ষা নিয়েছে রাজধানীর একটি স্কুল—সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের মালিবাগ শাখা। করোনা মহামারির ঝুঁকিপূর্ণ সময়ে এটা কি যুক্তিযুক্ত কোনো কাজ হলো? এ নিয়ে নাগরিকমহল আলোচনামুখর।

গত শনিবার সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে স্কুলটিতে। ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থী শিশুদের ভর্তি পরীক্ষা নিয়েছে তারা। যেসব অভিভাবক তাঁদের সন্তানদের ভর্তি পরীক্ষা দেওয়াতে নিয়ে গিয়েছিলেন তাঁদের অনেকের বক্তব্য, সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেই এ পরিস্থিতিতে ভর্তি পরীক্ষা দেওয়াতে নিয়ে গিয়েছিলেন তাঁরা। এ খবর প্রকাশের পরই নাগরিকমহলে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ দুঃখ প্রকাশ করে বলেছেন, এটা তাদের ভুল পদক্ষেপ। শাখাসংশ্লিষ্টরা তাঁকে না জানিয়েই কাজটি করেছে। এই সময়ে এমন আয়োজন দুঃখজনক। তিনি সবার কাছে এ ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন।

করোনাকালে সবার স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে এবং যথাসম্ভব সতর্ক থাকতে হবে। শিশু-কিশোর-তরুণ, যারা দেশের ভবিষ্যৎ তাদের নিয়ে একটু বেশি সতর্ক থাকতে হবে। প্রতিষ্ঠানটির এ কাজ পরিস্থিতি সম্পর্কে তাদের অজ্ঞতারই পরিচায়ক। স্বাস্থ্যবিধির প্রতি অবজ্ঞাও বটে। আর কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যেন এমন কাজ না করে সেটাই হবে আমাদের একান্ত কামনা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা