kalerkantho

রবিবার । ২৮ আষাঢ় ১৪২৭। ১২ জুলাই ২০২০। ২০ জিলকদ ১৪৪১

করোনা পরীক্ষায় ফি নির্ধারণ

দরিদ্র মানুষের বিষয়টি বিবেচনা করুন

২৯ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




করোনা পরীক্ষায় ফি নির্ধারণ

করোনাভাইরাস সংক্রমণের এই সংকটকালে কিছু কিছু খবর আমাদের আশাবাদী করে; যেমন—দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমিত রোগী শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুহার নেমে এসেছে ১.২৭ শতাংশে। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৪০.৫৪ শতাংশ। আরো আশাবাদী হওয়ার মতো খবর হচ্ছে, দেশে করোনা সংক্রমণ বিস্তারে একজন থেকে অন্যজনের মধ্যে ছড়ানোর হার আরো কমে গেছে। রিপ্রডাকশন হার এখন মাত্র ১.০৫। তবে এই হার যাতে আর না বাড়ে এবং এটাকে ১-এর নিচে নামিয়ে আনা যায়, সে ক্ষেত্রে কাজ করছে করোনাভাইরাস মোকাবেলায় গঠিত বিভিন্ন পর্যায়ের কারিগরি কমিটি। বিশেষজ্ঞরাও বলছেন, রিপ্রডাকশন হার যদি ১-এর নিচে নামে, তাহলে ধরে নিতে হবে, এরপর ধীরে ধীরে সংক্রমণ নিচের দিকে নামতে থাকবে। আশা জাগানোর মতো আরেকটি খবর হচ্ছে, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর গবেষণা ও পরীক্ষামূলক ব্যবহারের জন্য অ্যান্টিবডি টেস্টের অনুমতি দিয়েছে। এরই মধ্যে র্যাপিড টেস্টিং অ্যান্টিবডি কিট ব্যবহারের নীতিমালা চূড়ান্ত করেছে সরকারের ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর; এখন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতি পেলে এই কিট ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে। অ্যান্টিবডির পাশাপাশি অ্যান্টিজেন টেস্টেরও অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এসব ভালো খবরের পাশাপাশি যে খবরটি সাধারণ মানুষকে উদ্বিগ্ন করবে তা হচ্ছে, করোনা পরীক্ষায় টাকা নেবে সরকার। সরকারি হাসপাতাল ও বুথে গিয়ে নমুনা পরীক্ষা করালে ফি দিতে হবে ২০০ টাকা। আর বাসায় গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করলে ৫০০ টাকা ফি দিতে হবে। এ বিষয়ে শিগগিরই প্রজ্ঞাপন জারি হতে যাচ্ছে। কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে, করোনার কারণে সরকারের আয় কমে গেছে। একেকটি নমুনা পরীক্ষার পেছনে যে টাকা খরচ হয়, বাংলাদেশের মতো দেশে এটি দুই থেকে তিন মাস বিনা মূল্যে করা সম্ভব; কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে সম্ভব নয়। এ জন্য সরকার একটি ফি নির্ধারণ করতে যাচ্ছে। দ্বিতীয় কারণ হলো, নমুনা পরীক্ষা করতে গিয়ে এর অপব্যবহার হচ্ছে বলে অনেকের ধারণা। সন্দেহ হলেই পরীক্ষা নিরুৎসাহ করার জন্যও সরকার এমন সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে।

সরকারিভাবে টাকা নেওয়ার বিষয়ে এরই মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখানে যদি টাকার বিষয়টি আসে, তাহলে দরিদ্র শ্রেণির মানুষ পরীক্ষা করাতে আসবে না। কেউ কেউ ধারণা করছেন, পরীক্ষায় নিরুৎসাহ করতেই সরকার টাকা নিতে চাইছে। পাশের দেশ ভারত, পাকিস্তান, নেপাল এবং আফ্রিকার দেশগুলো এখনো তাদের নাগরিকদের বিনা মূল্যেই করোনার নমুনা পরীক্ষা করে যাচ্ছে। আমাদের দেশের মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র জনগোষ্ঠী এই করোনা সংকটে বড় চাপে পড়ে গেছে। এ সময় করোনা পরীক্ষায় সরকারের ফি নির্ধারণ করে দেওয়া সংগত হবে না বলে আমরা মনে করি। করোনা পরীক্ষা সবার জন্য উন্মুক্ত করা হবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা