kalerkantho

রবিবার । ২৮ আষাঢ় ১৪২৭। ১২ জুলাই ২০২০। ২০ জিলকদ ১৪৪১

ঢাকায় করোনা পরিস্থিতির উন্নতি

সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে

২৭ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঢাকায় করোনা পরিস্থিতির উন্নতি

দেশে করোনাভাইরাসে মৃত্যুর হার বা সংখ্যা মোটামুুটিভাবে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকলেও সংক্রমণ এখন পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। গতকাল শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন তিন হাজার ৮৬৮ জন। মৃত্যু হয়েছে ৪০ জনের। এ নিয়ে দেশে সর্বমোট এক লাখ ৩০ হাজার ৪৭৪ জনের মধ্যে করোনাভাইরাস শনাক্ত হলো। সুখের কথা, এরই মধ্যে ৫১ হাজার ৪৯৫ জন সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরে গেছেন। গত তিন মাসের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যাচ্ছে, রাজধানী ঢাকায় করোনাভাইরাস শনাক্ত ও মৃত্যুর হার কমেছে। এটি অবশ্যই একটি ইতিবাচক দিক। কারণ ঢাকা অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ একটি নগরী। করোনার হটস্পট হিসেবে পরিচিতি পাওয়া নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরেও আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা কমতে শুরু করেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গত তিন মাসের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, দেশে করোনা সংক্রমণের শুরু থেকে এ পর্যন্ত মোট শনাক্ত ও মৃত্যুর গড় হিসাবেও ঢাকা বিভাগে কমেছে শনাক্ত ও মৃত্যুর হার। গত এপ্রিল পর্যন্ত শনাক্ত রোগী ছিল ঢাকায় প্রায় ৯০ শতাংশ, যা এখন নেমে এসেছে ৬৪.৪৩ শতাংশে। আর মৃত্যু এপ্রিলের শুরুতে ঢাকায় ছিল গড়ে ৮৮ শতাংশ, তা এখন নেমে এসেছে ৫২.৯৭ শতাংশে। এই পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবরে বলা হচ্ছে, ঢাকার বাইরে চট্টগ্রামে শনাক্ত ও মৃত্যুহার দ্রুত বেড়ে চলেছে। বিশেষ করে ঢাকার পরই সর্বোচ্চ ২৭ শতাংশে উঠে এসেছে চট্টগ্রামের মৃত্যুহার। এরপর রাজশাহীতে ৪.০৪, সিলেটে ৩.৭২, বরিশালে ৩.২২, খুলনায় ২.৮৪, ময়মনসিংহে ২.৭১ ও রংপুরে ২.৫ শতাংশ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নমুনা পরীক্ষা বাড়লে ঢাকার বাইরে করোনাজনিত কভিড-১৯ রোগী শনাক্তের সংখ্যাও বাড়বে। কারণ সাধারণ ছুটির নামে লকডাউন দেওয়া হলেও সারা দেশে কোথাও তা কার্যকর করা যায়নি।  আবার ঢাকার বাইরে থেকে মানুষকে ঢাকায় ডেকে আনা হয়েছে। ঢাকা থেকে অনেককেই বিভিন্ন জেলায় যেতে দেওয়া হয়েছে। এতে সংক্রমণ ছড়িয়েছে সারা দেশে। শুরু থেকেই লকডাউন কঠোরভাবে কার্যকর করা গেলে ঢাকায় আক্রান্ত ও মৃত্যুহার আরো কম থাকত বলে অনেকের ধারণা। আবার ঢাকার বাইরে করোনাভাইরাস এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ত না।

ঢাকা ও এর পাশের দুই জেলা শহরে শনাক্ত কমলেও ঢাকার বাইরের অন্যান্য জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে, এই খবরটি আবার আশঙ্কার। মানুষের অসচেতনতাও এর জন্য দায়ী। স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে প্রতিদিনের ব্রিফিংয়ে করোনার ঝুঁকি এড়াতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে সবাইকে অনুরোধ জানানো হয়। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কোনো প্রবণতা অনেক মানুষের মধ্যেই দেখা যাচ্ছে না। এখন পর্যন্ত মাস্ক পরার বিষয়টি শতভাগ নিশ্চিত করা যায়নি।

স্বাস্থ্য বিভাগকে যেমন পরীক্ষার সংখ্যা ও চিকিৎসাসেবা বাড়াতে হবে, তেমনি জনসাধারণকেও সচেতন হতে হবে। সবার সম্মিলিত চেষ্টায় করোনা প্রতিরোধ সম্ভব হবে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা