kalerkantho

বুধবার । ২৪ আষাঢ় ১৪২৭। ৮ জুলাই ২০২০। ১৬ জিলকদ  ১৪৪১

বড় সংকটে পোশাকশিল্প

ছাঁটাই কোনো সমাধান নয়

৬ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তৈরি পোশাক খাত আজ দেশের প্রধান শিল্প। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে পোশাকশিল্পের অবদান অনেক বড়। মুদ্রা বিনিয়ম হার, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা হারানো, প্রতিযোগী দেশগুলোর সরকার থেকে নীতি সহায়তা, ব্যাবসায়িক ব্যয় বৃদ্ধিসহ নানা কারণে কিন্তু এই শিল্পে নতুন করে সংকট দেখা দিয়েছে। চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই কমেছে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি, বন্ধ হয়েছে অনেক কারখানা। চাকরিচ্যুত হয়েছে শ্রমিকরা। বাংলাদেশের পোশাকশিল্প এর আগে যে বড় সংকটটির মোকাবেলা করেছিল সেটি ছিল ২০১৩ সালে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ দুর্ঘটনা রানা প্লাজা ধস-পরবর্তী সময়। সে সময় যে সংকটের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে যেতে হয়েছে সেটি ছিল শুধু বাংলাদেশের একার। এখন তৈরি পোশাকের মূল ক্রেতারাও কারোনাভাইরাসকালে রয়েছেন চরম বিপদে।

বাংলাদেশে নোভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ে গত ৮ মার্চ। আগের মাস থেকেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের প্রভাবে ক্রমে ক্রমে সংকুচিত হতে শুরু করে পোশাকশিল্প। বিজিএমইএর হিসাবে, মার্চ পর্যন্ত সক্রিয় দুই হাজার ২৭৪টি সদস্য কারখানার মধ্যে দুই হাজার ১৮২টি কারখানার ২৪ লাখ ২৪ হাজার ৪১৭ জন শ্রমিক মার্চ মাসের বেতন পেয়েছিলেন। তবে এপ্রিলে সক্রিয় ছিল মাত্র এক হাজার ৯২৬টি কারখানা। মহামারির কারণে পোশাক কারখানায় একের পর এক ক্রয়াদেশ বাতিল হয়েছে। অনেক কারখানা বিদেশে পণ্য পাঠিয়েও ক্রেতার কাছ থেকে অর্থ পাননি বলে দাবি করছেন। সম্প্রতি সব কারখানা খুলে দিলেও কাজ নেই। অন্যদিকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কারখানা চালাতে হচ্ছে। বিজিএমইএ সভাপতি বলেছেন, করোনার কারণে ৫৫ শতাংশ সক্ষমতা নিয়ে উৎপাদন চালাতে হলে কারখানাগুলোর পক্ষে শ্রমিক ছাঁটাই ছাড়া উপায় থাকবে না। সংকট এখানেই।

মানতেই হবে, দেশের রপ্তানিতে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখা পোশাক খাত এখন ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। এই সময়ে শ্রমিক ছাঁটাই শিল্পে অসন্তোষ সৃষ্টি করবে। কাজেই বিকল্প ভাবতে হবে। খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমান সময়ে পোশাক খাতের বহুমুখীকরণ জরুরি। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বিশ্ববাণিজ্যে প্রতিযোগিতা এবং রপ্তানি বৃদ্ধি ও সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নতি করলে তা বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও বস্ত্রের রপ্তানি বাড়বে। নতুন বাজারও তৈরি হবে। এই সুযোগ বাংলাদেশ নেবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা