kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৩ আষাঢ় ১৪২৭। ৭ জুলাই ২০২০। ১৫ জিলকদ  ১৪৪১

সাধারণের ত্রাহি অবস্থা

সরকারের বিশেষ নজর দরকার

৫ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনা পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের আয় অস্বাভাবিক হারে কমে গেছে। এরই মধ্যে সরকারি ও বেসরকারি চার খাতের সেবা ও পণ্যের মূল্য বেড়েছে। জীবনযাত্রার ব্যয় সামলাতে দিশাহারা অবস্থা তাদের। অথচ করোনাকালে মানুষের জন্য একটু স্বস্তির ব্যবস্থা হতে পারত, যদি বিভিন্ন সেবা ও পণ্যের মূল্য কমত। হয়েছে উল্টো।

বেসরকারি হিসাবে, করোনার কারণে দেশে গড় পারিবারিক আয় প্রায় ৭৪ শতাংশ কমেছে। ১৪ লাখেরও বেশি প্রবাসী শ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন। তাঁরা দেশে ফিরেছেন বা ফিরছেন। ফলে প্রবাসী আয় কমেছে ব্যাপক হারে। অভ্যন্তরীণ কারণও রয়েছে। মার্চে বেড়েছে বিদ্যুতের দাম, যা এপ্রিল থেকে দিতে হচ্ছে। এপ্রিলে কার্যকর হয়েছে পানির বর্ধিত দাম, যা মে থেকে দিতে হচ্ছে। সর্বশেষ চলতি মাসে বাস মালিকদের চাপে সরকার গণপরিবহনের ভাড়া বাড়িয়েছে ৬০ শতাংশ। নিত্যপণ্যের বাজারের উত্তাপ ভোক্তারা সহ্য করছে মার্চ থেকে। ভোক্তারা বলছে, একদিকে করোনার দুশ্চিন্তা, অন্যদিকে জীবনযাত্রার ব্যয় মেটানোর দুশ্চিন্তা। খরচ কমাতে গিয়ে জীবনযাত্রার মান কমছে। খাদ্যাভ্যাস বদল করে ব্যয় কমাতে হচ্ছে। ফলে পুষ্টিমানে অবনমন হচ্ছে। এ অবস্থায় মানসিক ভারসাম্য বজায় রাখাই কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে।

মার্চ থেকে সাধারণ গ্রাহক পর্যায়ে (খুচরা) প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম গড়ে ৩৬ পয়সা (৫.৩ শতাংশ) বাড়ানো হয়েছে। পাইকারিতে গড়ে ৪০ পয়সা বা ৮.৪ শতাংশ বেড়েছে। গত ১ এপ্রিল থেকে ঢাকা ও চট্টগ্রাম নগরীর ভোক্তাদের গুনতে হচ্ছে পানির বাড়তি দাম। ঢাকা ওয়াসা প্রতি হাজার লিটার আবাসিক পানির দাম ১১ টাকা ৫৭ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১৪ টাকা ৪৬ পয়সা করেছে। চট্টগ্রাম ওয়াসা ৯ টাকা ৯২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১২ টাকা ৪০ পয়সা করেছে। নিত্যপণ্যের বাজার চড়া। গত ২৬ মার্চ সাধারণ ছুটি শুরু হওয়ার সপ্তাহখানেক আগে থেকেই নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছিল। ছুটি শুরু হতেই চাল, ডাল, তেল, চিনি, আদা, রসুন, পেঁয়াজ, মরিচসহ সব নিত্যপণ্যের দাম লাফিয়ে বাড়তে থাকে। এখন দর কিছুটা কমলেও বাড়তিই রয়েছে।

এই পরিস্থিতি মানুষ কী করে সামাল দেবে? বাসাভাড়া ও অন্যান্য খরচ কমেনি। এর মধ্যে সরকারি-বেসরকারি সেবার দাম বাড়ায় এবং নিত্যপণ্যের বাজার চড়া থাকায় সাধারণ মানুষের প্রায় মরণদশা। সরকারকে বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া উচিত। বেঁচেবর্তে থাকার জন্য যাদের এখন বেশি প্রয়োজন, তাদের জন্য ভর্তুকির ব্যবস্থা করা উচিত।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা