kalerkantho

বুধবার । ৩১ আষাঢ় ১৪২৭। ১৫ জুলাই ২০২০। ২৩ জিলকদ ১৪৪১

যাত্রী পরিবহনে অরাজকতা

শৃঙ্খলা ফেরাতে ব্যবস্থা নিন

৪ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




যাত্রী পরিবহনে অরাজকতা

দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকা গণপরিবহন চালু হয়েছে গত সোমবার থেকে। নৌপথে শুরু হয়েছে লঞ্চ চলাচল। সময়ের প্রয়োজনেই চালু করা হয়েছে গণপরিবহন। সীমিত আকারে হলেও অফিস খুলে দেওয়ার পর এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাওয়ার প্রয়োজনে গণপরিবহন চালু করতে হয়েছে। আবার এক জেলা থেকে অন্য জেলায় যাওয়া-আসার প্রয়োজনে চালু হয়েছে আন্ত জেলা বাস ও লঞ্চ চলাচল। বাস ও লঞ্চ চলাচল শুরুর আগে সরকার বাসের নতুন ভাড়া নির্ধারণ করে দেওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাত্রী পরিবহনের বেশ কিছু নির্দেশনাও জারি করে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, সরকারের এই ভাড়া বিষয়ক নির্দেশনা সঠিকভাবে মানা হচ্ছে না। মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধিও। সব বাসে সামাজিক দূরত্বও বজায় রাখা হয়নি। জীবাণুনাশকের ব্যবহারও সন্তোষজনক ছিল না। কোথাও কোথাও যাত্রীদের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া। সরকার করোনাকালের জন্য ৬০ শতাংশ ভাড়া বাড়ালেও বাস ও মিনিবাসে তার চেয়ে বেশি ভাড়া আদায় করা হয়েছে—এমন অভিযোগ আছে। মানা হয়নি বাস চলাচলে শৃঙ্খলাও। স্বাস্থ্যবিধি না মানা এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করায় দেশের বিভিন্ন স্থানে বাস ও লঞ্চকে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। কিন্তু তাতে খুব একটা কাজ হয়েছে বলে মনে হয় না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তদারকি জোরদার করতে না পারলে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যাবে।

কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবরে দেখা যাচ্ছে, রাজধানী ঢাকার অনেক গণপরিবহনেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাত্রী উঠানো বা নামানো হচ্ছে না। কোনো কোনো পরিবহনে সহকারীর হাতে জীবাণুনাশক স্প্রে থাকলেও অনেক পরিবহনে তা ব্যবহার করতে দেখা যায়নি। আবার স্বাস্থ্যবিধি মেনে এক আসন পর যাত্রী বসানোর কথা থাকলেও অনেক গণপরিবহন তা মানেনি। অন্যদিকে দূরপাল্লার বাসেও মানা হয়নি স্বাস্থ্যবিধি। আদায় করা হয়েছে বাড়তি ভাড়া। এ ছাড়া কোনো কোনো রুটে বাস চলাচলে আগের মতোই প্রতিযোগিতা লক্ষ করা গেছে। লেনবিধি মেনে চলেনি বাস। সার্বিকভাবে গণপরিবহন পরিচালনায় তদারকি এবং সমন্বয়ও চোখে পড়ার মতো ছিল না।

গণপরিবহনে অব্যবস্থাপনার অভিযোগ নতুন কিছু নয়। অতীতেও ভাড়া নিয়ে নৈরাজ্য দেখা গেছে। গণপরিবহন বন্ধ করে যাত্রীদের জিম্মি করা হয়েছে। গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়কারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি বিআরটিএকে নির্দেশনা দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী। আমাদের প্রত্যাশা অরাজকতা দূর করে যাত্রী পরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা