kalerkantho

রবিবার । ২৮ আষাঢ় ১৪২৭। ১২ জুলাই ২০২০। ২০ জিলকদ ১৪৪১

ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন প্যাকেজ

এই সুযোগ কাজে লাগাতে হবে

২ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন প্যাকেজ

করোনাভাইরাস মহামারির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংক ঋণগ্রহীতাদের জন্য নতুন প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ঘোষিত প্যাকেজে দুই মাসের সুদ মওকুফ করতে সরকারের পক্ষ থেকে দুই হাজার কোটি টাকার নতুন আরেকটি প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের পর প্রধানমন্ত্রী এ পর্যন্ত ১৮টি প্যাকেজ দিয়েছেন। নতুন ঘোষিত প্যাকেজসহ এই ১৯টি প্রণোদনা প্যাকেজের মোট পরিমাণ দাঁড়াল এক লাখ তিন হাজার ১১৭ কোটি টাকা। প্যাকেজে গৃহীত ঋণের দুই মাসের ১৬ হাজার ৫৪৯ কোটি টাকা সুদ স্থগিত করা হয়েছে। স্থগিত সুদের মধ্যে দুই হাজার কোটি টাকা সরকার বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে ভর্তুকি হিসেবে প্রদান করবে। ফলে আনুপাতিক হারে ব্যাংক ঋণগ্রহীতাদের আর তা পরিশোধ করতে হবে না।

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে করোনাভাইরাসের নেতিবাচক প্রভাব অনেক আগেই পড়েছে। এরই মধ্যে আমদানি ব্যয় ও রপ্তানি আয় ১ শতাংশ কমে গেছে। প্রবাসী আয়ের ক্ষেত্রেও করোনার প্রভাব পড়বে। শেয়ারবাজারের ওপর প্রভাব পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে বাজেট ঘাটতির পরিমাণ আরো বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কা অমূলক নয়। অভ্যন্তরীণ চাহিদা কমে যাওয়ায় জিডিপির প্রবৃদ্ধিও হ্রাস পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আর এসব অবস্থা থেকে উত্তরণেই সহায়তার পদক্ষেপ হিসেবে তাত্ক্ষণিক করণীয়, স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করা হচ্ছে। প্যাকেজ ঘোষণা করে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, সরকারের এই দুই হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি প্রদানের ফলে প্রায় এক কোটি ৩৮ লাখ ঋণগ্রহীতা, যাঁরা বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছেন তাঁরা সরাসরি উপকার পাবেন। তাঁরা কভিড-১৯-এর কারণে বন্ধ থাকা ব্যবসা-বাণিজ্য বা দোকানপাট পুনরায় চালুর সুযোগ পাবেন।

এসব প্যাকেজের উদ্দেশ্য হচ্ছে ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প ও সার্ভিস সেক্টরের প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল সুবিধা দেওয়া। ব্যাংক ও গ্রাহকের সম্পর্কের ভিত্তিতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো ঋণ দেবে। এ ঋণ সুবিধার সুদের হার হবে ৯ শতাংশ। কুটিরশিল্পসহ ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল সুবিধা পাবে। এ ঋণসুবিধার সুদের হারও হবে ৯ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংক প্রবর্তিত এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের (ইডিএফ) সুবিধাও বাড়ানো হচ্ছে। এ ছাড়া  প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিট রিফাইন্যান্স স্কিম নামে বাংলাদেশ ব্যাংক পাঁচ হাজার কোটি টাকার একটি নতুন ঋণ সুবিধা চালু করবে।

লক্ষণীয় যে দেশের অর্থনীতিতে করোনার প্রভাব যেন পড়তে না পারে সে জন্য সরকার তীক্ষ দৃষ্টি রেখেছে। তার প্রতিফলন ঘটেছে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজে। এর আগে রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করার জন্য পাঁচ হাজার কোটি টাকার একটি আপৎকালীন প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। আমরা আশা করব ব্যবসায়ীরা ঘোষিত প্যাকেজের সুবিধা নিয়ে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখবেন।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা