kalerkantho

শনিবার । ২৭ আষাঢ় ১৪২৭। ১১ জুলাই ২০২০। ১৯ জিলকদ ১৪৪১

বাসের বর্ধিত ভাড়া

যাত্রীদের ঘাড়ে বোঝা চাপাবেন না

১ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল গণপরিবহন। পুনরায় গণপরিবহন চলাচল শুরু হচ্ছে জেনে মানুষ যতটা খুশি হয়েছিল, তার চেয়ে বেশি আশাহত হয়েছে বাসভাড়া ৮০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব শুনে। অবশ্য শেষ পর্যন্ত ভাড়া ৬০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। ভাড়ার এই তালিকা কার্যকর হলে মিরপুর-১২ নম্বর থেকে ভাটারা নতুন বাজার পর্যন্ত আসতে আগে যেখানে একজন যাত্রীকে দিতে হতো ২৭ টাকা, সেখানে এখন দিতে হবে ৪৩ টাকা। শুধু এই রুটেই নয়, সারা দেশের চার শতাধিক রুটেই এমন ভাড়া বৃদ্ধির কথা বলেছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি অনুযায়ী দূরপাল্লার বাসে এক হাজার টাকার ভাড়া হবে এক হাজার ৬০০ টাকা। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আগের ৮০ শতাংশ সুপারিশকৃত হার জনমনে ব্যাপক ক্ষোভের সঞ্চার করেছে। সম্ভবত বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আজ থেকে সরকারি ও বেসরকারি সব অফিসই খোলা। চাকরিজীবীদের অফিসে যেতেই হবে। সাধারণ মানুষকেও অতি প্রয়োজনে চলাচল করতে হবে। করোনায় দীর্ঘদিন প্রায় বন্দিদশায় কাটাতে হয়েছে। এ সময় প্রায় সবারই আয়-উপার্জন কমেছে। অন্যদিকে বেড়েছে খরচের খাত। নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় প্রতিটি পণ্যের দাম বেড়েছে। এ অবস্থায় বাসভাড়া যদি এক লাফে ৬০ শতাংশ বাড়িয়ে দেওয়া হয়, তাহলে সেটি হবে মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো। করোনা সংক্রমণ রোধের লক্ষ্যে বাসগুলোতে আসনসংখ্যার অর্ধেক যাত্রী তোলার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তাতে বাসগুলোর আয় কমে যাবে এবং সে কারণেই বাসমালিকরা ভাড়া বাড়ানোর আবেদন করেন। সেই আবেদনে সাড়া দিয়ে বিআরটিএ ৮০ শতাংশ বাসভাড়া বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল। কিন্তু এই বর্ধিত ভাড়া বহন করার ক্ষমতা কি সাধারণ যাত্রীদের আছে? সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বাসমালিকদের আবেদনের যৌক্তিকতা বিচার করে অতিরিক্ত ভাড়া নির্ধারণ করতে হবে এবং করোনা সংকটের এই সময়টাতে প্রয়োজনে রাষ্ট্রকেই তা ভর্তুকি হিসেবে বাসমালিকদের দিতে হবে। কোনো মতেই যাত্রীদের ওপর তা চাপিয়ে দেওয়া যাবে না।

আমরা আশা করি, সরকারের সাধারণ যাত্রীদের সামর্থ্য বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের দরকার ছিল। ভাড়ার বোঝা তাদের ঘাড়ে চাপানো ঠিক হয়নি। এটা রাষ্ট্রের বহন করা উচিত ছিল। বাসে সোশ্যাল ডিসটেন্সিংসহ স্বাস্থ্যবিধি যাতে সম্পূর্ণ মেনে চলা হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। বাসগুলো যেন মোট আসনের অর্ধেকের বেশি যাত্রী তুলতে না পারে, তা-ও দেখতে হবে সরকারকে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা