kalerkantho

শনিবার । ২৭ আষাঢ় ১৪২৭। ১১ জুলাই ২০২০। ১৯ জিলকদ ১৪৪১

খুলছে অফিস-আদালত

সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে

৩০ মে, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে




খুলছে অফিস-আদালত

করোনাভাইরাসের মহামারি ঠেকাতে সাধারণ ছুটি শুরু হয়েছিল গত ২৬ মার্চ থেকে। দুই মাসের অবরুদ্ধ অবস্থা কাটিয়ে অফিস ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি গণপরিবহনও চালু হচ্ছে কাল থেকে। অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চালু হচ্ছে ১ জুন থেকে। প্রকাশিত খবরে বলা হচ্ছে, গ্রামের বাড়িতে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে দক্ষিণাঞ্চল থেকে সড়কপথে কর্মস্থল ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। ঘাটে ঘাটে মানুষের স্রোত নেমেছে। লঞ্চ ও স্পিডবোট বন্ধ থাকায় ফেরিতে গাদাগাদি করে পাড়ি দিতে গিয়ে বাড়ছে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, অর্থনীতি সচলের জন্য স্বাস্থ্যবিধি মেনেই এসব খোলা হবে। ১৫ জুন পর্যন্ত পরিস্থিতি দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে তত দিনে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার অবস্থায় থাকবে কি না তা নিয়ে সংশয় রয়েছে বিশেষজ্ঞদের। ভাইরাস সংক্রমণের দিক থেকে নাজুক পরিস্থিতির মধ্যে এভাবে সব খোলার সিদ্ধান্তকে আত্মঘাতী মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। কারণ রোগীর সংখ্যা বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। বহির্বিশ্বের দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাই অন্যান্য দেশ তখনই লকডাউন শিথিল করেছে, যখন তাদের দেশে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার কমে আসছিল। কিন্তু বাংলাদেশ স্বাভাবিক জীবনে ফিরছে যখন, তখন আক্রান্তের হার সবচেয়ে বেশি। সাধারণ ছুটি প্রত্যাহারের ক্ষেত্রে জনজীবন সচল করে অর্থনীতিতে প্রাণ ফেরানোর যুক্তিই দেখিয়েছে সরকার। তবে একসঙ্গে প্রায় সব খুলে দেওয়াটাকে ছোঁয়াচে এই রোগ বিস্তারের সুযোগ করে দেওয়া বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সব কিছু খুলে দেওয়ার পর স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে অনুসরণ করা না হলে বড় ঝুঁকির আশঙ্কা প্রকাশ করেছে কভিড-১৯ মোকাবেলায় গঠিত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটিও। গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি ও খবরে ঢাকামুখী মানুষের যে স্রোত দেখা গেছে, তাতে আশঙ্কা আরো বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সামনে কঠিন সময়। এখন রোগের সংক্রমণ শেষ হয়ে যাচ্ছে না।

তবে বিশেষজ্ঞরা এটাও বলছেন, সময় এখনো শেষ হয়ে যায়নি। ঝুঁকি এড়াতে এখন সবার দায়িত্বশীল হওয়ার বিষয়ে জোর দিচ্ছেন তাঁরা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের মধ্যেই আলোচনা করে কর্মপদ্ধতি ঠিক করা উচিত। গণপরিবহন চলবে, কিন্তু কিভাবে দূরত্ব বজায় থাকবে। প্রতিটি জায়গায় তাদেরই দায়িত্ব দিতে হবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য।

ঘরে-বাইরে সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবে, দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা