kalerkantho

রবিবার । ২৮ আষাঢ় ১৪২৭। ১২ জুলাই ২০২০। ২০ জিলকদ ১৪৪১

ছুটি বাতিল ঘোষণা

সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে

২৯ মে, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




ছুটি বাতিল ঘোষণা

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে দেশে সাধারণ ছুটির নামে অঘোষিত লকডাউন শুরু হয়েছিল গত ২৬ মার্চ থেকে। এর পর সাত দফায় ৩০ মে পর্যন্ত সাধারণ ছুটি বাড়ানো হয়। সেই ছুটি শেষ হচ্ছে কাল। সাধারণ ছুটির মেয়াদ আর না বাড়িয়ে ৩১ মে থেকে অফিস-আদালত খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গত বুধবার এই সিদ্ধান্তটি এসেছে। ওই দিন থেকে সীমিত পরিসরে বাসও চলবে। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আপাতত খুলছে না; চলাফেরায় বিধি-নিষেধও আগের মতো থাকছে। ঘরবন্দি থাকার এই সময়ে কিছু বিধি-নিষেধ শিথিলের পর যখন সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে সবচেয়ে বেশি, তখন ঈদ কাটিয়ে অফিস ও গণপরিবহন চালু হতে যাচ্ছে। স্বাস্থ্যবিধিসহ বেশ কয়েকটি শর্ত মেনে সীমিত পরিসরে অফিস চালুর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন দিয়েছেন।

সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছিল মানুষকে ঘরে রাখার জন্য। কিন্তু দেশের বাস্তবতায় তা সম্ভব হয়নি। এখন সাধারণ ছুটি পরীক্ষামূলকভাবে তুলে নেওয়া হলেও এই সময়টিতে আমাদের সবচেয়ে বেশি সতর্ক থাকতে হবে। যেসব দেশে লকডাউন তুলে নেওয়া হয়েছে, সেসব দেশের দিকে তাকালে কিছু বাস্তব চিত্র আমাদের সামনে উঠে আসে। লকডাউনের বিধি-নিষেধ শিথিল হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই করোনাভাইরাস সংক্রমণ বাড়তে শুরু করেছে জার্মানিতে। আবার সবাইকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন না রেখে তিনটি মন্ত্র—থ্রি সি মেনে কাজ করেছে জাপান : ‘ক্লোজড স্পেস’, ‘ক্রাউডেড স্পেস’ এবং ‘ক্লোজড কনট্যাক্ট’ থেকে দূরে থাকা। সর্বোপরি জাপানের রয়েছে সংক্রমণ শনাক্তে প্রশিক্ষিত জনবল, যাদের কাজে লাগিয়েছে দেশটি। লকডাউন তুলে নেওয়ায় ইউরোপের দেশগুলো, দেশের মানুষ বন্দিদশা থেকে আপাত মুক্তি পেয়ে কিছুটা হাঁফ ছাড়লেও বিধি-নিষেধ শিথিলে সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকিও চোখ রাঙাচ্ছে সেখানে।

প্রকাশিত প্রতিবেদন বলছে, বিশ্বজুড়ে লকডাউন শিথিল হতে থাকায় মানুষ পরস্পরের কাছাকাছি আসছে; তাতে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে। লকডাউন শিথিল হওয়ায় ঝুঁকি তৈরি হবে। আর সে কারণেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কোনো বিকল্প নেই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এক মিটার ন্যূনতম শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে বলে আসছে, যা ‘সামাজিক দূরত্ব’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। কোনো কোনো দেশের সরকার এই দূরত্ব বাড়িয়ে দেড় থেকে দুই মিটারও করেছে। তবে করোনাভাইরাস সংক্রমণ থেকে সুরক্ষার বিষয়টি শুধু এই দূরত্বের ওপর নির্ভর করে না। দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সময়। সময়ের মতো আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে বায়ু চলাচল। খোলা জায়গায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম থাকে, কেননা কেউ ভাইরাস ছড়ালে তা বাতাসে দুর্বল হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

কাজেই আমাদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। অবলম্বন করতে হবে সর্বোচ্চ সতর্কতা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা