kalerkantho

মঙ্গলবার  । ২০ শ্রাবণ ১৪২৭। ৪ আগস্ট  ২০২০। ১৩ জিলহজ ১৪৪১

আম্ফানের ক্ষতি

পুনর্বাসনে দ্রুত ব্যবস্থা নিন

২৩ মে, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর অঘোষিত লকডাউনে জনজীবন বিপর্যস্ত। প্রতিদিন বাড়ছে করোনায় আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে এক বড় সংকট অতিক্রম করছে বাংলাদেশ। এই সংকটে নতুন মাত্রা যোগ করল সুপার সাইক্লোন আম্ফান। বাংলাদেশের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে মোট ২৬টি জেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, পানিসম্পদ, কৃষি মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার বিভাগ ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক হিসাব দিয়েছে। প্রায় এক হাজার ১০০ কোটি টাকা ক্ষতির প্রাথমিক হিসাব পাওয়া গেছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, ২৬টি জেলায় এক হাজার ১০০ কিলোমিটার রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া ২০০টি ব্রিজ-কালভার্ট ও ২৩৩টি স্থানীয় সরকার কার্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপকূলের বেড়িবাঁধগুলো লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ১৫০ কিলোমিটার বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য দিয়েছে। বাঁধ ভেঙে হু হু করে পানি ঢুকেছে লোকালয়ে। তলিয়ে গেছে ফসলি জমি। ভেসে গেছে হাজার হাজার মাছ ও চিংড়িঘের। কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল ও খুলনা বিভাগে পাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সাতক্ষীরা, রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রায় ১৫০ কোটি টাকার আমের ক্ষতি হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে পৌনে দুই লাখ হেক্টর জমির ফসলের ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেছেন, টাকার অঙ্কে ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে কৃষকদের ক্ষতি পোষানোর ব্যবস্থা করা হবে, তাঁদের প্রণোদনা দেওয়া হবে। ক্ষতিগ্রস্ত শাক-সবজি ও মসলা চাষিদের তালিকা তৈরি করে তাঁদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আমন মৌসুমে বিনা মূল্যে সার, বীজ ও নগদ সহায়তাসহ বিভিন্ন প্রণোদনা দেওয়া হবে।

সিডরের পর সবচেয়ে ভয়াবহ ছিল আম্ফান। এই ঘূর্ণিঝড়ে যে ক্ষতি হয়েছে তা কাটিয়ে উঠতে কত দিন লাগবে, তা এখনই বলা সম্ভব নয়। তবে আশার কথা এই যে এরই মধ্যে ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি ঠিক করার জন্য ঘূর্ণিঝড় উপদ্রুত প্রতিটি জেলায় ৫০০ বান্ডেল করে টিন এবং ১৫ লাখ করে টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে ক্ষতিগ্রস্তদের ঘর নির্মাণ, অর্থ ও ত্রাণ সহায়তা দিতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশ দিয়েছেন। এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব ও পরিচালকরা ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের জন্য জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ শুরু করেছেন। দ্রুততম সময়ের মধ্যে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ হিসাব করে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন করা হবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

মন্তব্য