kalerkantho

সোমবার । ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ১  জুন ২০২০। ৮ শাওয়াল ১৪৪১

আম্ফানের তাণ্ডব

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মেনে ব্যবস্থা নিন

২২ মে, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




আম্ফানের তাণ্ডব

রাতভর তাণ্ডব চালিয়ে বৃষ্টি ঝরিয়ে দুর্বল হয়ে স্থল নিম্নচাপে পরিণত হয়ে সুপার সাইক্লোন আম্ফান চলে গেলেও রেখে গেছে তার ক্ষত। এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, আম্ফান উপকূলে আছড়ে পড়ার আগেই গত বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত উপকূলীয় নদ-নদীর পানি তিন থেকে ছয় ফুট বেড়ে যায়। এ কারণে পটুয়াখালী, বরগুনা, পিরোজপুরসহ বিভিন্ন জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। রাত পর্যন্ত শতাধিক গ্রাম তলিয়ে হাজার হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে। আম্ফান উপকূলে আছড়ে পড়ার পর ৫ থেকে ১০ ফুট পর্যন্ত জলোচ্ছ্বাস হওয়ার খবর পাওয়া যায়। ঝড়ে কয়েকটি জেলায় হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে। বহু গাছপালা ও ঘরবাড়ি উপড়ে গেছে। বিদ্যুত্হীন হয়ে পড়েছে উপকূলের ১০ লাখ মানুষ। প্রাপ্ত খবরে দেখা যাচ্ছে, ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের প্রভাবে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে বরগুনার বিভিন্ন স্থানে বেড়িবাঁধ ভেঙে অর্ধশত গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। জলোচ্ছ্বাসের পানিতে ভেসে গেছে মাছের ঘের। তলিয়ে গেছে মুগডাল, চিনাবাদাম ও ভুট্টার ক্ষেত। প্রবল ঢেউয়ের তোড়ে গত বুধবার সাতক্ষীরা, খুলনা, বরগুনা, পটুয়াখালী, লক্ষ্মীপুরসহ বিভিন্ন জেলায় বেড়িবাঁধে ভাঙন দেখা দেয়। আরো অনেক স্থানের বাঁধে ফাটল ধরেছে। আম্ফানের প্রভাবে বড় জলোচ্ছ্বাসে উপকূলীয় এসব এলাকার বহু গ্রাম, পুকুর, মাছের ঘের তলিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। খবরে প্রকাশ, লক্ষ্মীপুর ও ঝালকাঠিতে নদীও ভাঙছে। ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে কৃষিতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। আম, লিচু, কাঁঠাল এখনো গাছে। কৃষকের বোরো ধান মাঠে। বাদামও মাঠে। এ বছর ৪৭ লাখ ৫৪ হাজার ৭৩৪ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের আগ পর্যন্ত প্রায় ৭১ শতাংশ ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে।

সিডর ও আইলায় ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ায় ওই অঞ্চলের মানুষ আবারও একটা বড় ক্ষতির আশঙ্কা করছিল। তবে শেষ পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আগের ঘূর্ণিঝড়গুলোর তুলনায় কম হয়েছে বলে ধারণা করছে স্থানীয় বাসিন্দারা। অবশ্য ক্ষযক্ষতির পরিমাণ জানতে আমাদের আরো কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। তবে সারা দেশেই কিছু না কিছু ক্ষতি হয়েছে। এখন পর্যাপ্ত ত্রাণ নিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে হবে। দুর্গতদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নিতে হবে। ঘূর্ণিঝড় আম্ফান-পরবর্তী সময়ে তিনটি বিষয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিষয় তিনটি হলো—উপকূলের বাঁধে নজর রাখা, দুর্যোগের পর পানিবন্দি মানুষের খাওয়ার পানির সংকট যেন না হয় এবং উদ্ধার অভিযানে যাতে শিথিলতা না থাকে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মেনেই আম্ফান-পরবর্তী ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালিত হবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা