kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৪ জুন ২০২০। ১১ শাওয়াল ১৪৪১

আম্ফানের হানা

দুর্ভোগ দূর করতে ব্যবস্থা নিন

২১ মে, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আম্ফানের হানা

করোনা মহামারির সংক্রমণের মধ্যেই নতুন আঘাত সুপার ঘূর্ণিঝড় আম্ফান। সরকার ও দেশের মানুষ যখন করোনার বিরুদ্ধে লড়াই করছে, তখনই নতুন লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিতে হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় আম্ফান আঘাত হানার আগেই মানুষের জানমাল রক্ষায় বড় ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ঘূর্ণিঝড়টি বাংলাদেশ উপকূলের ৩৫০ কিলোমিটারের মধ্যে চলে আসার পর দেশের সব সমুদ্রবন্দরকে ‘মহাবিপত্সংকেত’ দেখাতে বলে আবহাওয়া অফিস। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে উপকূলের বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়। বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত উপকূলীয় জেলাগুলোর ১৩ লাখ ৬৪ হাজার মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য বিধি মেনে লোকজনদের রাখা হয় আশ্রয়কেন্দ্রে।

তবে এত কিছুর পরও করোনার মধ্যে ঘূর্ণিঝড় আম্ফান নিয়ে আতঙ্কিত হতে হয়েছে উপকূলীয় জেলার বাসিন্দাদের। সুগন্ধা ও বিষখালী নদীবেষ্টিত ঝালকাঠি জেলার মানুষকে আম্ফানে উদ্বেগ ও উৎপাণ্ঠার মধ্যে দিন পার করতে হয়। কারণ বিষখালী নদীর বেড়িবাঁধ না থাকায় জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় পড়ে যায় নদীতীরের মানুষ। উপকূলের আরেক জেলা বরগুনার সাতটি স্থানে বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ফলে সেখানকার মানুষেরও দুশ্চিন্তার অন্ত ছিল না। আতঙ্ক বেড়েছিল বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সাউথখালীর মানুষের মধ্যে। সিডরে অরক্ষিত হয়ে পড়ে মৃত্যুপুরী হিসেবে পরিচিতি পাওয়া সাউথখালী ইউনিয়নের বলেশ্বর নদের তীরবর্তী পাঁচ গ্রামের মানুষের মনেও ছিল আতঙ্ক। সিডর প্রথম আঘাত হেনেছিল সাউথখালীতে। মৃত্যু হয়েছিল সাত শতাধিক মানুষের। আম্ফানের গতিপথও ছিল সেই সাউথখালী। অথচ সেখানকার দুই কিলোমিটার এলাকায় কোনো টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়নি। ভাঙা বাঁধের পাশে এখনো ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে শত শত পরিবার। তার ওপর  দেশের বাঁধগুলো অত্যন্ত দুর্বল অবস্থানে আছে। সাতক্ষীরার শ্যামনগর, বরগুনা, খুলনার বাঁধগুলো অত্যন্ত দুর্বল। বেশি উচ্চতায় জলোচ্ছ্বাস হলে এসব বাঁধ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বরগুনার সাতটি স্থানে বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায়। প্রশ্ন হচ্ছে যখন কোনো দুর্যোগ সামনে আসে তখনই বাঁধগুলো সামনে আসে কেন? কেন আগে থেকেই এসব বাঁধ মেরামত হয় না।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ফসলহানির আশঙ্কা। এখনো ৩০ শতাংশের মতো বোরো ধান মাঠে। তাই আম্ফানে কৃষিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। এই এলাকায় কিছু ধান উঠে দেরিতে। অন্যদিকে মাঠে বিকল্প ফসলও থাকে। তা ছাড়া জলোচ্ছ্বাসে মৎস্যসম্পদেরও ক্ষতির আশঙ্কা হয়েছে। 

বরাবরের মতো এবারও এই ঘূর্ণিঝড়ের ভয়াবহতা মোকাবেলায় বুকচিতিয়ে দাঁড়িয়েছে সুন্দরবনই। নিকট-অতীতে ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর ঘূর্ণিঝড় সিডর এবং ২০০৯ সালের ২৫ মে ঘূর্ণিঝড় আইলার আঘাতের বেশির ভাগই সুন্দরবন ঠেকিয়েছিল।

আম্ফানে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে জীবনের ছন্দে ফিরিয়ে আনা হবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা