kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৪ জুন ২০২০। ১১ শাওয়াল ১৪৪১

সংকটে সংবাদপত্রশিল্প

সরকারি বিজ্ঞাপনের বিল পরিশোধ করুন

২০ মে, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনা পরিস্থিতিতে নজিরবিহীন সংকটে পড়েছে দেশের সংবাদমাধ্যম। চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে প্রতিষ্ঠানগুলো। এর সবচেয়ে বড় কারণ সরকার বিজ্ঞাপন বিল বাবদ বকেয়া পরিশোধ করছে না। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সংবাদপত্রের প্রকাশনা অব্যাহত রাখার স্বার্থে সরকারের কাছে বিজ্ঞাপন বিল বাবদ পাওনা টাকা দ্রুত পরিশোধ করার নির্দেশ দেওয়ার পরও তা দেওয়া হচ্ছে না। নির্দেশ দেওয়ার পর তিন সপ্তাহ চলে গেছে, এখনো কার্যকর করা হয়নি। তথ্য মন্ত্রণালয় ক্রোড়পত্র বাবদ সরকারের কাছে পাওনা বিল দ্রুত পরিশোধের যে নির্দেশ দিয়েছে, সেটাও কার্যকর হয়নি।

করোনা পরিস্থিতির কারণে গত ২৬ মার্চ থেকে টানা সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন জেলায় লকডাউন চলছে, গণপরিবহন বন্ধ রয়েছে। ফলে পত্রিকা বিতরণ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। সংবাদমাধ্যমে বেসরকারি বিজ্ঞাপন বন্ধ হয়ে গেছে। সরকারি বিজ্ঞাপনও সীমিত হয়ে গেছে। বিজ্ঞাপন বিল সংগ্রহও বন্ধ হয়ে গেছে। কর্মীদের জীবন ঝুঁকিতে পড়েছে। তবু প্রকাশনা অব্যাহত রয়েছে। পৃষ্ঠাসংখ্যা কমিয়ে পত্রিকা প্রকাশ করা হচ্ছে, কোনোটি প্রকাশনা বন্ধ করে অনলাইনে সংবাদ প্রকাশ করে টিকে থাকার চেষ্টা করছে। কয়েকটি সংবাদপত্র বন্ধ হয়ে গেছে। আর্থিক সংকটে পড়ে কয়েকটি সংবাদপত্র কর্মীদের বেতন-ভাতা দিতে পারছে না। আঞ্চলিক অনেক সংবাদপত্র বন্ধ হয়ে গেছে। আগে কখনো এমন সংকটে পড়েনি সংবাদপত্রশিল্প। এ অবস্থার মধ্যেও মূলধারার সংবাদপত্রগুলো তাদের প্রকাশনা অব্যাহত রেখেছে। মানুষকে তারা শুধু তথ্যসেবাই দিচ্ছে না, সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত অনেক গুজব ও অসত্য তথ্য প্রচারকেও মোকাবেলা করছে।

এই পরিস্থিতিতে গত ৩০ এপ্রিল নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) কর্মকর্তারা তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বকেয়া বিজ্ঞাপন বিল পেতে তাঁর সহযোগিতা কামনা করেন। তারও এক মাস আগে ৩০ মার্চ তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নোয়াব, সম্পাদক পরিষদ ও অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্স (অ্যাটকো) নেতারা বিজ্ঞাপন বাবদ সরকারের কাছে পাওনা টাকা দ্রুত পরিশোধের ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান। এই পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৬ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সরকারের কাছে পাওনা বিজ্ঞাপনের বিল পরিশোধের নির্দেশ দিয়ে ৫৮টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবকে চিঠি দেয়। গত ১২ মে তথ্য মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টদের আবার তাগিদপত্র দেয়। কিন্তু এখনো পাওনা টাকা পরিশোধ করা হয়নি।

আমরা আশা করি, সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের কথা ভেবে, সংবাদপত্রশিল্পের অস্তিত্বের স্বার্থে, বস্তুনিষ্ঠ তথ্য প্রচারের প্রয়োজনে দ্রুত ও কার্য়কর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা