kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৪ জুন ২০২০। ১১ শাওয়াল ১৪৪১

‘সুপার ঘূর্ণিঝড় আসছে

দুর্যোগ-পরবর্তী ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করুন

২০ মে, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘সুপার ঘূর্ণিঝড় আসছে

সিডরের চেয়েও বেশি শক্তি নিয়ে উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে ‘সুপার সাইক্লোন’ আম্ফান। চলতি শতাব্দীতে বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া এটি দ্বিতীয় সুপার ঘূর্ণিঝড়। ২০০৭ সালের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় সিডরও সুপার ঘূর্ণিঝড় ছিল না। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, সুপার ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রের ৯০ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ২২৫ থেকে ২৪৫ কিলোমিটার পর্যন্ত হচ্ছে। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, ক্রমে শক্তি সঞ্চয় করে আম্ফান যেভাবে অগ্রসর হচ্ছে, তাতে গত বছর এপ্রিলে ফণীর মতো লণ্ডভণ্ড করতে পারে দেশের উপকূল। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে সতর্কতামূলক নানা ব্যবস্থা এরই মধ্যে নেওয়া হয়েছে। গতকাল পর্যন্ত মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৭ নম্বর বিপত্সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে বলা হয়েছে ৬ নম্বর বিপত্সংকেত দেখাতে। বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে ঘূর্ণিঝড় ও অমাবস্যার প্রভাবে ১৪টি জেলার নিম্নাঞ্চলে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে চার-পাঁচ ফুট বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে উপকূলীয় জেলাগুলোতে ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। প্রায় ৫১ লাখ মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আবহাওয়াবিদদের বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, ভৌগোলিক ও আবহাওয়াগত কারণে ঘূর্ণিঝড় এ অঞ্চলকে ‘চ্যানেল’ হিসেবে বেছে নিয়েছে। ঘূর্ণিঝড় রূপ নেওয়ার পর ডান দিকে মোড় নেয়। এবারও তাই হয়েছে। সুপার সাইক্লোন আম্ফানের ব্যাস বেশ বড়। এ ধরনের ঝড় শেষ মুহূর্তেও সামান্য দিক পরিবর্তন করতে পারে। এটি উড়িষ্যা উপকূল হয়ে উত্তর দিকে সরে পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ উপকূলে আসবে। এবারও সুন্দরবন অংশ পাবে। এক যুগ আগের সিডরের ঝড়ও গিয়েছিল সুন্দরবনের ওপর দিয়ে, যা রক্ষা করেছিল উপকূলের বিস্তীর্ণ এলাকা। বুলবুলের ক্ষেত্রেও ঢাল হয়ে ছিল সুন্দরবন। জয়েন্ট টাইফুন ওয়ার্নিং সেন্টার আম্ফানের সম্ভাব্য যে গতিপথ দেখিয়েছে, তাতে উপকূল অতিক্রম করার সময় এ ঝড়ের কেন্দ্র বা চোখ থাকতে পারে সুন্দরবনের ওপর। বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তর ও ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর (আইএমডি) বলছে, ঘূর্ণিঝড়ের গতি বাড়ুক কিংবা কমুক, এর প্রভাবে বাংলাদেশের উপকূলসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। বাংলাদেশ সরকারের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও আবহাওয়া অধিদপ্তরের আম্ফানসংক্রান্ত যৌথ প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের ৫১টি জেলায় আম্ফানের প্রভাব পড়তে পারে। তবে উপকূলের ২৪ জেলায় ঝড়ের প্রভাবে ফসল ও জনজীবনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি।  

অতীতেও আমরা দেখেছি সিডর, ফণী বা বুলবুলের সময় বাংলাদেশ দুর্যোগ মোকাবেলায় সামর্থ্যের পরিচয় দিয়েছে। একই সঙ্গে দুর্যোগ-পরবর্তী সময়েও মানুষের দুর্ভোগ দূর করতে ব্যবস্থা নিতে হবে। আমরা আশা করব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবারও অতীতের মতো ত্রাণ ও পুনর্বাসনে দক্ষতা কাজে লাগিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা