kalerkantho

শুক্রবার । ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৫ জুন ২০২০। ১২ শাওয়াল ১৪৪১

করোনাবিষয়ক গবেষণা

সরকারের সহায়ক ভূমিকা দরকার

৮ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের শুরু গত ডিসেম্বরের মাঝামাঝি, চীনের উহানে।  গতকাল পর্যন্ত সারা বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত হয়েছে প্রায় সাড়ে ১৩ লাখ মানুষ। মৃতের সংখ্যা ৭৫ হাজার ছাড়িয়েছে। এর সংক্রমণের ভয়াবহতা এই সংখ্যাচিত্র থেকেই অনুমেয়। অণুজীবটির সংক্রমণের ঘটনা এবারই প্রথম। ফলে এর কারণে সৃষ্ট রোগের লক্ষণ সম্পর্কে ধারণা পেতে বেশ সময় লেগেছে; এর স্বভাব এখনো পুরোপুরি জ্ঞাত নয়। এ কারণে এর নির্দিষ্ট ওষুধ বা প্রতিষেধক নেই। করোনাভাইরাস মোকাবেলার জন্য অন্যান্য ভাইরাসজনিত রোগের প্রতিষেধকের প্রয়োগ করা হয়েছে বিভিন্ন দেশে। তবে ভাইরাসটির স্বভাব সম্পর্কে অবহিত হওয়ার এবং একে মোকাবেলার ওষুধ উদ্ভাবনের চেষ্টা চলছে। বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও ওষুধ প্রস্তুতকারী কম্পানির গবেষকরা গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন; ব্যক্তিগত উদ্যোগেও অনেকে চালিয়ে যাচ্ছেন এসংক্রান্ত গবেষণা। এ অবকাশে অনেক দেশই করোনা শনাক্ত করার কিট বানিয়েছে। করোনা গবেষণায় বাংলাদেশও পিছিয়ে নেই।

করোনা সংক্রমণ শনাক্তকরণ কিট তৈরির শেষ পর্যায়ে রয়েছে একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র। ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ (ডুয়েট) কয়েকটি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইনস্টিটিউট, কয়েকটি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান করোনা প্রতিরোধের উপায় বের করার জন্য গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে। গত মাসে করোনা পরীক্ষার সহজ ও সাশ্রয়ী পদ্ধতি উদ্ভাবন করার কথা জানায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র। গত ১৯ মার্চ তাদের কিট তৈরির উপাদান আমদানির অনুমতি দেয় সরকার। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, গত রবিবার চীন থেকে কিট তৈরির উপাদান তাদের হাতে এসে পৌঁছেছে। এখন তারা উৎপাদন শুরু করবে। ডুয়েটের তিন অধ্যাপক দাবি করেছেন, তাঁরা করোনা প্রতিরোধের যে কৌশল বের করেছেন, তা মেনে বিশ্বমানের করোনা নিরোধক ওষুধ তৈরি করা যেতে পারে। অ্যান্টিভাইরাল পোশাক তৈরি করাও সম্ভব। একটি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান বলেছে, তারা কভিড-১৯ শনাক্ত করার কিট বানাতে সক্ষম। মান পরীক্ষার জন্য নমুনা আইইডিসিআরে জমা দেওয়া হয়েছে। অনুমোদন পেলে এক সপ্তাহের মধ্যে ৫০ লাখ কিট তারা সরবরাহ করতে পারবে। আইইডিসিআর জানিয়েছে, নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। করোনা শনাক্তকারী সফটওয়্যার তৈরি করেছে একটি বিশ্ববিদ্যালয়। করোনা রোগীদের চিকিৎসায় চিকিৎসকদের সহকারী হিসেবে একটি রোবট তৈরি করেছেন আরেকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। আরেকটি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান একটি ওষুধ তৈরি করে রেখেছে। প্রতিষেধক উদ্ভাবন ও করোনা সংক্রমণ শনাক্তকরণ বিষয়ক এসব গবেষণার খবর অবশ্যই স্বস্তিদায়ক।

সরকার নিরীক্ষা সাপেক্ষে এসব বিষয়ে অনুমোদন এবং উৎপাদন সহায়তা দিলে তা মানুষের কল্যাণে কাজে লাগবে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা