kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ২৯  মে ২০২০। ৫ শাওয়াল ১৪৪১

ঘরে থাকার বিকল্প নেই

সরকারকে কঠোর হতে হবে

৭ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঘরে থাকার বিকল্প নেই

দেশের কোনো স্থানে করোনা সন্দেহ করা হলে সেই এলাকা ‘লকডাউন’ করে দেওয়া হচ্ছে। করোনা উপসর্গ দেখা দিলেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহ করে কাছাকাছি পরীক্ষাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়াও গতি পেয়েছে। পরীক্ষার আওতা বাড়ার পর দেশে এক দিনে নতুন ৩৫ জনের সংক্রমণ ধরা পড়ায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১২৩। ২৪ ঘণ্টায় আরো তিনজনের মৃত্যু হয়েছে, তাতে দেশে কভিড-১৯-এ মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১২। নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত দুর্নীতি দমন কমিশনের একজন পরিচালক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তিনি গত আট দিন রাজধানীর কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। আইইডিসিআরের গত রবিবারের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী দেশের ১১টি জেলায় কভিড-১৯ রোগী পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রাজধানী ঢাকায় আক্রান্তের সংখ্যা বেশি। ঢাকা মহানগরীতে ৩০টি স্থানে রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে দুটি স্থানে গুচ্ছ আকারে কভিড-১৯ ছড়িয়ে পড়ছে। আইইডিসিআর বলছে, কমিউনিটি ট্রান্সমিশন শুরু হয়ে গেছে। এখন ক্লাস্টার থেকে রোগী আসা শুরু হয়েছে। এ অবস্থায় সাধারণ ছুুটির মেয়াদ বেড়েছে। সরকার যেকোনোভাবে মানুষকে ঘরে রাখতে চাইছে। মানুষের স্থানান্তর বন্ধ, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ সরকারি নির্দেশনা মানতে কড়াকড়ি বেড়েছে। কেউ যাতে ঢাকায় ঢুকতে এবং ঢাকা থেকে বেরোতে না পারে সে বিষয়েও পুলিশকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কভিড-১৯ মহামারি ঠেকাতে হলে এখনই পাড়া-মহল্লা-গ্রাম-গঞ্জে সক্রিয় গণসার্ভেইল্যান্স শুরু করতে হবে। সেটি কী করে সম্ভব, তা-ও বলে দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, ব্যাপক মানুষকে সম্পৃক্ত করে সক্রিয় করে পাড়া-মহল্লা-গ্রাম-গঞ্জে গণকমিটি গঠন করে পারস্পরিক শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখেই প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে খবর নিতে হবে। দীর্ঘ জাতীয় কোয়ারেন্টিনে তাদের কী অসুবিধা হচ্ছে, খাবারের বা বাজার করতে কোনো অসুবিধা হচ্ছে কি না, হয়ে থাকলে সমস্যা সমাধানের জন্য সক্রিয় হতে হবে। খোঁজ নিতে হবে, বাসার কারো জ্বর ও শুকনো কাশি আছে কি না? বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এভাবে পাড়া-মহল্লা-গ্রাম-গঞ্জে কভিড-১৯ রোগের উৎস খুঁজে বের কেরে রোগীকে আলাদা করা, পরীক্ষা করা, চিকিৎসা করা, সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের কোয়ারেন্টিন করা প্রভৃতি জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে মহামারি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তবে সরকারের পাশাপাশি এর সঙ্গে জনসাধারণকে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা মনে করেন, মানুষকে সক্রিয় করে তাদের মধ্যে যে শুভবুদ্ধি আছে, তা জাগিয়ে তুলে তাদের সংগঠিত করে মহামারিকে ঠেকিয়ে দেওয়া সম্ভব।

আবার এটিও সত্য যে মানুষকে ঘরে রাখতে সরকারকে আরো কঠোর হতে হবে। সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে গেলে তার বিরুদ্ধে নিতে হবে উপযুক্ত ব্যবস্থা। সবার সম্মিলিত চেষ্টা মহামারি রুখে দেবে—এটিই আমাদের প্রত্যাশা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা