kalerkantho

শনিবার । ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৩০  মে ২০২০। ৬ শাওয়াল ১৪৪১

ঝুঁকিতে শ্রমিকদের ঢাকায় ফেরা

মালিকপক্ষের ব্যাখ্যা আবশ্যক

৬ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছিল করোনাভাইরাস সংক্রমণ ব্যাপক হারে যাতে না ঘটে সে জন্য। সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে পারলে সংক্রমণের বিস্তার রোধ করা যে সম্ভব তা অনেক দেশের অভিজ্ঞতা থেকে বোধগম্য। অতএব সরকারের এ ঘোষণা সময়োচিত ছিল, তাতে সন্দেহ নেই। ছুটির অবকাশে প্রচুর মানুষ ঢাকা ছেড়ে বাড়ি ফিরে গিয়েছিল, যদিও সেখানে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার পরামর্শ যথাযথভাবে মেনে চলা হচ্ছিল না বা হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। তবু সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা বেশির ভাগ সম্ভব হয়েছে, হচ্ছে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সেনাবাহিনী সারা দেশে টহলও দিচ্ছে। প্রথমে ছুটি ছিল ৪ এপ্রিল পর্যন্ত, পরে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়। অবস্থা পূর্ণমাত্রায় সন্তোষজনক না হলেও মোটামুটি স্বস্তিদায়ক। বিপন্ন মানুষের জন্য নিরাপদে খাদ্য সহায়তা ও দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানোর জন্য কিছু নগদ অর্থ দেওয়া গেলে পরিস্থিতি যথেষ্ট স্বস্তিদায়ক হতে পারত। তদুপরি মোটা দাগে সংস্পর্শ এড়িয়ে চলার অবস্থা ছিল। কিন্তু গোল বাধালেন পোশাক কারখানার মালিকরা।

মালিকরা ছুটির বর্ধিত সীমা অগ্রাহ্য করে ৫ এপ্রিল কারখানা খুলবে বলে শ্রমিকদের ঢাকায় ফিরতে বলেন। চাকরি রক্ষার স্বার্থে, বেতনটি পাওয়া যাবে—এ আশায় তারা ৪ এপ্রিল ঢাকার দিকে রওনা দেয়। কিন্তু গণপরিবহন বন্ধ থাকায় তারা কী করে আসবে সে কথা মালিকরা চিন্তা করেননি এবং কোনো ধরনের ব্যবস্থাও করেননি। ফলে যে যেভাবে পারে সেভাবেই ঢাকায় বা অন্যান্য স্থানে পৌঁছার চেষ্টা করেছে; হাজার হাজার লোক দীর্ঘ দূরত্ব হেঁটে অতিক্রম করেছে। ফলে এক দিনেই সরকারের সামাজিক দূরত্ব রক্ষার ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। যারা ফিরেছে তারা গাদাগাদি করে, ঠাসাঠাসি করে ফিরেছে; কার্যত তারা ফিরতে বাধ্য হয়েছে। অথচ করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এখনো প্রবল মাত্রায় রয়েছে। এর মধ্যেই শত ভোগান্তি সঙ্গী করে পোশাক শ্রমিকদের অনেককে কর্ম এলাকায় ফিরতে হয়েছে। এমন একটি চরম ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি কী করে সৃষ্টি করলেন মালিকরা? এ নিয়ে ঢিঢি পড়ে গেছে গোটা সমাজে।

মালিকপক্ষের এ পদক্ষেপ জনস্বার্থ ও জনস্বাস্থ্যবিরোধী। তাঁরা কি করোনা সংক্রমণ বিস্তারের দায়িত্ব নিয়েছেন! এ ব্যাপারে সরকারের স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া উচিত। যদি সরকারকে অবহিত না করেই এ কাজ করা হয়ে থাকে, তাহলে মালিকদের ব্যাখ্যা দিতে বাধ্য করা উচিত।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা