kalerkantho

শনিবার । ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৬ জুন ২০২০। ১৩ শাওয়াল ১৪৪১

এডিবির আশাব্যঞ্জক পূর্বাভাস

সরকারের সর্বোচ্চ সতর্কতা ও তৎপরতা কাম্য

৫ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



করোনাভাইরাসের সংক্রমণজনিত কারণে বিশ্ব অর্থনীতি টালমাটাল দশায় পড়তে যাচ্ছে। অর্থনীতি বিশেষজ্ঞ এবং রাজনৈতিক অর্থনীতি বিশ্লেষকদের অনেকে বলছেন, প্রায় চার ট্রিলিয়ন ডলারের ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে বিশ্বকে। এ অবস্থার মধ্যেও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) বাংলাদেশের জন্য আশাপ্রদ কথা বলেছে। সংস্থাটি বলছে, করোনার প্রভাবের মধ্যেও চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছর শেষে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির প্রবৃদ্ধি হবে ৭.৮ শতাংশ, যা এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। এশিয়ার গড় প্রবৃদ্ধি হবে ২.২ শতাংশ। গত শুক্রবার এডিবি এ পূর্বাভাস দিয়েছে। বিষয়টি আমাদের জন্য স্বস্তিদায়ক বটে। এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক শিরোনামের প্রতিবেদনে বাংলাদেশে ২০২০-২১ অর্থবছরে ৮ শতাংশ জিডিপি অর্জিত হবে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।

প্রসঙ্গত, ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে সরকার ৮.২ শতাংশ জিডিপির প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে। কিন্তু করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের অর্থনীতিও বিপাকে পড়েছে। এ অবস্থার মধ্যে সরকারের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে এ প্রতিবেদন আশা জাগাবে। জনসাধারণের মধ্যেও স্বস্তির সঞ্চার ঘটাবে। বাংলাদেশে নিযুক্ত এডিবির আবাসিক পরিচালক বলেছেন, বিশ্ব অর্থনীতির ধীরগতির মধ্যেও বাংলাদেশের অর্থনীতি ভালো করবে; যদিও চলমান বৈশ্বিক মহামারিতে বাংলাদেশের অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এডিবির একটি প্রাথমিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, করোনার প্রভাবে বাংলাদেশের জিডিপির ০.২ থেকে ০.৪ শতাংশ ক্ষতি হতে পারে; যদি প্রাদুর্ভাব বেশি হয়, তাহলে ক্ষতি আরো বেশি হবে। সরকারের নেওয়া কিছু পদক্ষেপের প্রশংসা করে আবাসিক পরিচালক বলেন, পোশাক খাতের জন্য সরকারের প্রণোদনা ঘোষণা ইতিবাচক। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরের আট মাসে বাংলাদেশের অর্থনীতির বিভিন্ন সূচক ভালো ছিল। এ সময়ে অভ্যন্তরীণ চাহিদা শক্তিশালী ছিল। এর কারণ প্রবাসীদের পাঠানো টাকা। এডিবি বলছে, বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণেই থাকবে। মূল্যস্ফীতির হার ৫.৬ শতাংশের মধ্যে থাকবে; যদিও সরকার এ হার ৫.৫ শতাংশের মধ্যে রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এডিবি জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত রাজস্ব আদায়ের হার খুবই কম। এ হার বাড়ানো চ্যালেঞ্জের বিষয় হবে।

জিডিপির প্রবৃদ্ধি কমার শঙ্কার মূল কারণ করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব। অতএব এডিবির প্রতিবেদন বিশ্লেষণ ও করণীয় পর্যালোচনা করে সরকারের পক্ষ থেকে এমন ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে করোনা প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ পর্যায়ে যেতে না পারে। সরকার সর্বোচ্চ মাত্রায় সচেষ্ট থাকবে বলে আমরা আশা করি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা