kalerkantho

রবিবার। ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৭ জুন ২০২০। ১৪ শাওয়াল ১৪৪১

রেমিট্যান্সে করোনার প্রভাব

অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হবে

৪ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাংলাদেশের জিডিপিতে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ বা রেমিট্যান্সের অবদান ১২ শতাংশের মতো। খুব বেশি দিন আগের কথা নয়, সব সূচক নিম্নমুখী হওয়ায় বাংলাদেশের অর্থনীতি যখন ছিল চাপের মুখে, তখন আশার আলো দেখিয়েছিল রেমিট্যান্স। গত বছরের মে মাসে বাংলাদেশ পায় ১৭৪ কোটি ৮২ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। বছরের শেষ মাস ডিসেম্বরের প্রথম আট দিনেই আসে ৫৫ কোটি ডলার। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স প্রবাহে সুখবর নিয়ে শুরু হয়েছিল ২০১৯-২০ অর্থবছর। প্রথম মাস জুলাইয়ে এসেছিল ১৫৯ কোটি ৭৭ লাখ ডলার। আগস্টে আসে ১৪৪ কোটি ৪৭ লাখ ডলার। সেপ্টেম্বরে এসেছিল ১৪৭ কোটি ৬৯ লাখ ডলার। অক্টোবর মাসে আসে ১৬৪ কোটি ডলার। নভেম্বরে এসেছিল ১৫৫ কোটি ৫২ লাখ ডলার। ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে আসে যথাক্রমে ১৬৯ কোটি ১৭ লাখ ও ১৬৩ কোটি ৮৫ লাখ ডলার। ফেব্রুয়ারিতে এসেছিল ১৪৫ কোটি ২২ লাখ ডলার। 

করোনাভাইরাস মহামারির ছায়া পড়েছে দেশে অর্থনীতির প্রধান সূচকগুলোর মধ্যে আশার আলো জাগিয়ে রাখা রেমিট্যান্সেও। মার্চ মাসে রেমিট্যান্স এসেছে মাত্র ১২৮ কোটি ৬০ লাখ ডলার, যা গত ১৩ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। এটি গত বছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ১২ শতাংশ কম। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাষ্ট্র, কুয়েত, যুক্তরাজ্য, ওমান, মালয়েশিয়া, কাতার, ইতালি, বাহরাইন ও দক্ষিণ কোরিয়া থেকে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স আসে। এসব দেশে ছড়িয়েছে করোনাভাইরাস। করোনার কারণে প্রবাসী শ্রমিকরাও ভালো নেই। আবার এসব দেশে নতুন করে শ্রমিক পাঠানো আপাতত সম্ভব হবে না। আবার করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে অনেক দেশই ‘লকডাউনে’ রয়েছে, সব কাজকর্ম বন্ধ করে নাগরিকদের ঘরে থাকতে বলা হয়েছে। অনেক প্রবাসী দেশে ফিরে এসেছেন। যাঁরা আছেন, তাঁরাও কাজ করতে পারছেন না। সব বন্ধ। নিজেরাই চলতে পারছেন না। দেশে পরিবার-পরিজনের কাছে টাকা পাঠাবেন কী করে? এই পরিস্থিতির শেষ কবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

এ অবস্থায় রেমিট্যান্সের প্রবৃদ্ধি যে ধরে রাখা যাবে না তা স্পষ্ট। যদিও রেমিট্যান্সে ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। প্রবাসীরা এখন ১০০ টাকা দেশে পাঠালে যাঁর নামে টাকা পাঠাচ্ছেন, তিনিও ওই ১০০ টাকার সঙ্গে দুই টাকা যোগ করে ১০২ টাকা তুলতে পারছেন। বাজেটে এ জন্য তিন হাজার ৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। কিন্তু এই প্রণোদনা কোনো কাজে আসবে না।

কাজেই নতুন করে কোন পথে অগ্রসর হওয়া যায়, অর্থনীতিবিদদের সঙ্গে কথা বলে তা স্থির করতে হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা