kalerkantho

রবিবার। ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৭ জুন ২০২০। ১৪ শাওয়াল ১৪৪১

শুরু হচ্ছে বোরো ধান মাড়াই

বাজার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষকের স্বার্থরক্ষা জরুরি

৩ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



যেকোনো সংকটেরই প্রভাব পড়ে বাজারে। নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যায়। ব্যতিক্রম ঘটেনি করোনাভাইরাসের সময়ও। মহামারি নতুন করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়তে থাকায় আতঙ্কিত রাজধানীবাসীর পণ্যের মজুদের ঝোঁকের মধ্যে সুযোগ বুঝে চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় বেশ কিছু পণ্যের দাম অস্বাভাবিক বাড়িয়ে দিয়েছেন বিক্রেতারা। বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও বলেছেন, করোনাভাইরাসের আতঙ্কে মানুষের কেনাকাটা বেড়ে যাওয়ার কারণে বাজার কিছুটা অস্থিতিশীল হয়েছে। এ ছাড়া চাহিদা বেড়ে যাওয়ার সুযোগে বাজারে চাল ব্যবসার বিভিন্ন স্তরে দাম বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। চালের পাইকারি দাম নিয়ে খুচরা বিক্রেতা ও পাইকারি বিক্রেতার তথ্যের মধ্যে প্রায় ৪০০ টাকার গরমিল দেখা যাচ্ছে বলে খবরে প্রকাশ। এই সংকটকালে চালের দর বৃদ্ধি নিম্ন আয়ের মানুষকে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির মধ্যে ফেলেছে। তার প্রভাবও দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। কর্মহীন ও গরিব মানুষকে খাদ্য সহায়তা দিতে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে চলমান ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে কোনো শৃঙ্খলা নেই বলে খবর এসেছে গণমাধ্যমে। বাজারে বর্তমানে চালের দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। গত নভেম্বর মাসেও বাজারে সরু মিনিকেট চালের দাম ছিল ৪৪-৪৫ টাকা কেজি। নভেম্বরের শেষের দিকে তা বেড়ে ৫০ টাকার আশপাশে পৌঁছে। এরপর আরেক দফা বেড়ে ৫৩-৫৪ টাকা হয়। বাকিটা বাড়ে করোনাভাইরাসের আতঙ্কে বাড়তি কেনাকাটার কারণে।

তবে চালের মূল্যবৃদ্ধির এই প্রবণতা থাকবে না, বাজারে স্বস্তি ফিরবে বলে কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবরে উল্লেখ করা হয়েছে। মিল মালিক, ব্যবসায়ী ও কৃষি বিশ্লেষকদের উদ্ধৃত করে প্রকাশিত খবরে বলা হচ্ছে, বৈশাখের প্রথম সপ্তাহে দেশের প্রায় সব জেলায় শুরু হবে বোরো ধানা মাড়াই। সেসব ধান প্রক্রিয়াজাত হয়ে মিলগুলোতে আসতে লাগবে আরো সপ্তাহখানেক। সেই হিসাবে আগামী এপ্রিলের চতুর্থ সপ্তাহ থেকেই নতুন চাল বাজারে আসতে শুরু করবে। এর আগে মিল মালিকরা পুরনো সব চাল বিক্রি করার চেষ্টা করবেন। এ সময় সরবরাহব্যবস্থা (সাপ্লাই চেইন) স্বাভাবিক থাকলে বাজারে চালের সংকট কেটে যাবে। তবে ধান উঠার পর কৃষকদের দিকে অবশ্যই দৃষ্টি দিতে হবে। তাদের সুরক্ষার বিষয়টি নিয়ে ভাবতে হবে। দেখা যায়, মৌসুমের শুরুতে কৃষকদের ধান বিক্রির তাড়া থাকে। অন্যদিকে এক শ্রেণির ব্যবসায়ী এই সুবিধাটি নিয়ে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কম দামে ধান কিনে থাকে। সরকার শুরু থেকেই সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনা শুরু করলে ফড়িয়া ব্যবসায়ীরা বাজারে প্রভাব ফেলতে পারবে না। সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা