kalerkantho

শুক্রবার । ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৫ জুন ২০২০। ১২ শাওয়াল ১৪৪১

মানুষ বের হচ্ছে পথে

খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন

২ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনাভাইরাসজনিত সংক্রমণের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্বজুড়ে কিছু পরিভাষার প্রচল হয়েছে, যেমন লকডাউন, কোয়ারেন্টিন, আইসোলেশন, সোশ্যাল ডিস্ট্যান্স বা ‘সামাজিক দূরত্ব’ প্রভৃতি। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার ওপর সরকারগুলো জোর দিচ্ছে—ব্যবস্থাও নিচ্ছে, যাতে সংক্রমণ সর্বনিম্ন মাত্রায় রাখা যায়। সময়ের অভিজ্ঞতা বলছে, সামাজিক দূরত্ব মেনে চললে করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধ অনেকাংশে সম্ভব। কিন্তু আমাদের দেশের বাস্তবতা কী! গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ‘সামাজিক দূরত্ব’ মানা হচ্ছে না, মানা যাচ্ছে না। বিশেষ করে খাদ্যসংকটের সম্মুখীন মানুষের মধ্যে সরকারি উদ্যোগে খাদ্যসামগ্রী বিতরণের সময় এ বিধি লঙ্ঘিত হচ্ছে।

বিপন্ন, শঙ্কিত মানুষ সরকারি খাদ্যসামগ্রী হাতে পেতে অনিচ্ছা সত্ত্বেও প্রতিযোগিতার মধ্যে পড়ছে। ফলে শুরু হয় ঠেলাঠেলি, হুড়োহুড়ি। সামাজিক দূরত্বে থাকা তখন সম্ভব হচ্ছে না। এটা আসলে পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাগত সমস্যা। ফলে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের ভাবা উচিত এবং খাদ্যসামগ্রী বিতরণের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা উচিত। সরকারের উদ্যোগ শুভচিন্তাপ্রসূত হলেও বিষয়টিতে যথাযথ মনোযোগ না দিলে সংক্রমণের ঝুঁকি না কমে বরং বাড়বে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে কালের কণ্ঠ’র নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদনে শঙ্কাজনক পরিস্থিতির চিত্রই তুলে ধরা হয়েছে।

খেটে খাওয়া মানুষের মধ্যে আয়-রোজগারের তাগিদও আছে। এ কারণে তাদের ঘর থেকে বের হতে হয়। ফলে সাধারণ মানুষকে ঘরে রাখার ব্যবস্থা অনেক জায়গায় আলগা হয়ে গেছে। আবার জনপ্রতিনিধিরা যেখানে দুস্থদের ডেকে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করছেন, সেখানে গণমাধ্যমের লোকজন গেলে ফটোসেশনের জন্য নেতাকর্মীদের ভিড় লেগে যাচ্ছে। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। দৃশ্যত তাঁরা মানুষকে সহায়তা করছেন, প্রকৃত বিচারে মানুষকে আরো ঝুঁকিতে ফেলছেন। সামাজিক সংগঠনগুলোও মহাসড়কে বা অলিগলিতে গিয়ে মানুষ জড়ো করে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করছে। কারো মাথায় ঝুঁকির বিষয়টি কাজ করছে বলে মনে হয় না। শুরুতে কয়েক দিন বিধি মান্য করা হলেও এখন মানুষ বাইরে বেরোতে শুরু করেছে। মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত মানুষ বের হচ্ছে কেনাকাটার জন্য। নগরের রাস্তায় বেড়েছে ব্যক্তিগত গাড়ির চলাচল। গ্রামাঞ্চলের বাজারগুলোতে মানুষের পদচারণ বেড়েছে। হাট-বাজারে চায়ের আড্ডা চলছে।

সামগ্রিক চিত্রটি শঙ্কাজনক। সরকার ও জনপ্রতিনিধিদের সতর্কতা আগে দরকার। রাজনীতিকদের, জনপ্রতিনিধিদের মাঠে থাকতে হবে, ফটো তোলার জন্য নয়, বরং বিধি কার্যকর করার জন্য। খাদ্যসামগ্রী ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি নিম্ন আয়ের মানুষের হাতখরচের জন্য কিছু নগদ টাকা বরাদ্দ করার কথাও ভাবতে হবে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা