kalerkantho

শুক্রবার । ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৫ জুন ২০২০। ১২ শাওয়াল ১৪৪১

দেশেই ভেন্টিলেটর ও পিপিই

উন্মোচিত হবে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত

২ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দেশেই ভেন্টিলেটর ও পিপিই

বিশ্ব আজ এক মহাসংকটের মুখে দাঁড়িয়ে। একদিকে করোনা সংক্রমণ রোধ করে জীবন বাঁচানোর লড়াই, অন্যদিকে অর্থনৈতিক মন্দার শঙ্কা। নভেল করোনাভাইরাস একদিকে কেড়ে নিচ্ছে হাজার হাজার প্রাণ, অন্যদিকে কলকারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ হয়ে অর্থনীতির মুখ থুবড়ে পড়ার দশা। মঙ্গলবার জেলা প্রশাসকদের ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করে বলেছেন, নভেল করোনাভাইরাসের মহামারির কারণে বিশ্বজুড়ে আসন্ন ব্যাপক অর্থনৈতিক মন্দা মোকাবেলায় চিন্তাভাবনা এখন থেকেই আমাদের করতে হবে, পরিকল্পনা নিতে হবে।

অর্থনীতি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের ব্যবসায়ীরা যদি এখন আমদানি ও রপ্তানির বিকল্প বাজার ও গন্তব্য খোঁজেন তাহলে অর্থনীতির উপকার হবে। সেই সঙ্গে যেতে হবে নতুন পণ্যে। বর্তমানে যে হারে করোনা সংক্রমণ বাড়ছে, তাতে বিশ্বজুড়ে আক্রান্ত রোগীদের বাঁচাতে সবার আগে দরকার ভেন্টিলেটর। কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবরে বলা হচ্ছে, এই ‘লাইফ সেভিং ডিভাইস’ নিয়ে আমেরিকা-ইউরোপের মতো উন্নত দেশগুলোও পড়েছে গভীর সংকটে। করোনা আক্রান্ত রোগী বেড়ে গেলে বাংলাদেশও পড়তে পারে ভেন্টিলেটর সংকটে। এই সংকটকালে উচ্চ প্রযুক্তির এই মেডিক্যাল ডিভাইসের পেটেন্ট, সফটওয়্যার, সোর্সকোডসহ সব সহায়তা দিয়ে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ওমর ইশরাক। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান ইন্টেল করপোরেশন ও মেডট্রনিক্সের চেয়ারম্যান তিনি। বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ মেডিক্যাল যন্ত্র নির্মাতা মেডট্রনিক্সের সহায়তা নিয়েই দেশে ভেন্টিলেটর তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। শিগগিরই বৈশ্বিক স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী দেশেই শীর্ষ ইলেকট্রনিক ম্যানুফ্যাকচারিং কম্পানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর যৌথ উদ্যোগে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ভেন্টিলেটর তৈরি হবে বলে আশা করছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ (আইসিটি)। এতে দাম যেমন কমবে, তেমনি দেশের চাহিদা পূরণ করে রপ্তানিও করা যাবে।

অন্যদিকে তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ দেশের এই সংকটময় সময়ে সুরক্ষা সরঞ্জামের সংকট কাটাতে এরই মধ্যে পিপিই তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। বিজিএমইএ জানায়, এই বিশেষ পোশাক তৈরিতে দেশের ১০-১২টি কারখানা যুক্ত হয়েছে। পোশাকশিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, শতভাগ মেডিকেডেট পিপিই তৈরি করতে বাংলাদেশের আরো কমপক্ষে ছয় মাস সময় লাগবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, দক্ষ কর্মী, কাঁচামাল, স্বীকৃত মান সনদ দেয় এমন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সনদ নিয়ে বর্তমান অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো গেলে পোশাক খাতের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাময় খাত হতে পারে এই পিপিই।

এই দুটি খবর আমাদের নতুন করে আশার আলো দেখাচ্ছে। আমরা আশা করব, মেড ইন বাংলাদেশ ভেন্টিলেটর ও পিপিই বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের নতুন দিগন্ত খুলে দেবে। দেশের অর্থনীতিতে মন্দা মোকাবেলায় সহায়ক হিসেবে কাজ করবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা