kalerkantho

শুক্রবার । ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৫ জুন ২০২০। ১২ শাওয়াল ১৪৪১

পাহাড়ে হামের প্রকোপ

কোনো নাগরিকের প্রতি অবহেলা নয়

১ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনা সংক্রমণজনিত পরিস্থিতি মোকাবেলার আয়োজন, প্রস্তুতির তোড়জোড় যেমন চলছে, তেমনি জরুরি অনেক স্বাস্থ্যপ্রসঙ্গ এবং স্বাস্থ্যসেবার বিষয় মনোযোগের বাইরে থেকে যাচ্ছে। মশার উপদ্রব ভয়ানক। মশাবাহিত রোগের বিস্তারের আশঙ্কাও বেড়েছে। অথচ এ বিষয়ে যথাযথ মনোযোগ নেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের। জাত-শ্রেণিভেদে রাষ্ট্রের ভূমিকায় হেরফেরও দেখা যাচ্ছে, যা দৃষ্টিকটু। কারো কারো ক্ষেত্রে অবহেলার লক্ষণও স্পষ্ট, যেমন—পার্বত্য চট্টগ্রামে হামের বিস্তার এবং শিশুমৃত্যুর ঘটনায় নজরই দেওয়া হয়নি ঠিকমতো। প্রথমে অজ্ঞাত রোগের দোহাই দিয়ে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করা হয়েছে। এখন কিছু গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ করা শুরু হয়েছে। রাষ্ট্রের ও বৃহত্তর সমাজের এ মনোভাবকে নৃতাত্ত্বিক বৈষম্য ছাড়া আর কী বলা যেতে পারে! আসলে পাহাড়ি জনপদের ব্যাপারে, সেখানকার মানুষের ব্যাপারে কয়েক দশক ধরে বিদ্যমান রাষ্ট্রীয় আচরণের কোনো বদল হয়নি।

পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় হাম রোগ ছড়িয়েছে। রাঙামাটির সাজেক ইউনিয়নের দুর্গম শিয়ালদহ এলাকায় এর বিস্তার ব্যাপক। এটি প্রায় মহামারির আকার ধারণ করেছে। সাজেকের তিনটি দুর্গম পাহাড়ি এলাকার ৯ ত্রিপুরা শিশুর মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু সরকারের সংশ্লিষ্ট কোনো সংস্থার কার্যকর ও সময়োপযোগী উদ্যোগ দেখা যায়নি। দুর্গম ও প্রায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এসব এলাকায় চিকিৎসা সহায়তা দেওয়ার জন্য বেসামরিক কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানোর পর গত ২৪ মার্চ সামরিক ও বেসামরিক চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত একটি চিকিৎসকদলকে বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টারে করে শিয়ালদহ এলাকায় পাঠায় সেনাবাহিনী। তারা ২৪ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত ১৭১ শিশুসহ মোট ২০২ জন রোগীকে চিকিৎসা দিয়েছে, মানবিক সহায়তাও দিয়েছে। এ সহায়তা আরো আগে দেওয়া হলে ভালো হতো। রোগের প্রকোপ এখনো বহাল আছে। গত সোমবার হামের লক্ষণযুক্ত ২০ শিশুকে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। রবিবারও একজনকে ভর্তি করা হয়। মোট ২১ জন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। সরকারি অমনোযোগের পাশাপাশি সামাজিক কুসংস্কারও রয়েছে। অনেক অভিভাবক সন্তানদের হামের টিকা দিতে অনাগ্রহী বলে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের ভাষ্য। দীঘিনালা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আক্রান্ত এলাকায় ঘরে ঘরে খোঁজ নেওয়া হবে, চিকিৎসা দেওয়া হবে, হামের টিকাও দেওয়া হবে। 

উপদ্রুত এলাকাগুলোর অনেকে মনে করছে, শিশুদের হাসপাতালে নিলে করোনাভাইরাস হয়েছে ভেবে কী না কী করা হয়! এ ভীতি দূর করার দায়িত্ব সরকারি কর্তৃপক্ষগুলোর। শুরুতেই তত্পর হলে এবং মানুষকে সচেতন করা হলে এ ভীতি হয়তো থাকত না। যা-ই হোক, দেরিতে হলেও চিকিৎসা শুরু হয়েছে। রাষ্ট্রকে সব নাগরিকের প্রতি সমান আচরণ করতে হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা