kalerkantho

রবিবার । ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৩১  মে ২০২০। ৭ শাওয়াল ১৪৪১

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা

সমন্বিত উদ্যোগের বিকল্প নেই

১ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা

গতকাল মঙ্গলবার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জেলা প্রশাসকসহ মাঠপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের করোনাভাইরাস প্রতিরোধে বিভিন্ন নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী সাধারণ ছুটি ৯ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ছে। পরের দুই দিন সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় ১১ এপ্রিল পর্যন্ত টানা ছুটি থাকছে। ভিডিও কনফারেন্সে বাংলা নববর্ষের সব অনুষ্ঠান বাতিলের ঘোষণাও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। অর্থাৎ চলমান সংকটকে সব দিক থেকেই মোকাবেলা করতে চাইছেন তিনি। সরকারের পক্ষ থেকে করোনা প্রতিরোধে মানুষের করণীয় বিষয়ে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। এসব নির্দেশনা মেনে চলা আমাদের নাগরিক দায়িত্ব। কেননা নিজেদের সুরক্ষা নিজেদেরই করতে হবে। সাধারণ ছুটির সময় সবাইকে ঘরে অবস্থানের পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

করোনাভাইরাস নামে পরিচিত কভিড-১৯ সংক্রামক রোগটি দ্রুততার সঙ্গে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। দেশে করোনাভাইরাসের প্রকোপ বাড়তে থাকায় ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করা হয়। সেই সঙ্গে সড়ক, নৌ ও আকাশপথে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ রেখে সবাইকে বাড়িতে থাকতে বলা হয়। প্রকাশিত খবরে দেখা যাচ্ছে, সাধারণ ছুটি শুরু হওয়ার পর গত চার দিনের চেয়ে রাজধানীসহ সারা দেশে গত সোমবারের চিত্র ছিল একেবারেই ভিন্ন। মূল সড়কগুলোতে লোকজনের আনাগোনা কম থাকলেও অলিগলিতে ভিড় বাড়ছে। খুলতে শুরু করেছে বেশির ভাগ চায়ের দোকান ও অন্য ছোটখাটো দোকান। কাঁচাবাজারেও মানুষের ভিড় বেড়েছে। কাজের সন্ধানে বেরিয়েছে নিম্ন আয়ের লোকজন। গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও আগের চার দিনের চেয়ে রাস্তায় ব্যক্তিগত গাড়ি ও রিকশা ছিল বেশি।

শহরাঞ্চলে, বিশেষ করে রাজধানী ঢাকার রাস্তায় মানুষের ভিড় বেড়ে যাওয়ার কারণও রয়েছে। প্রকাশিত খবরেই বলা হচ্ছে, এখানে বহু কর্মজীবী মানুষ কাজ না পেয়ে অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে। ত্রাণের গাড়ির পেছনে ছুটেও অনেকে পাচ্ছে না ত্রাণ। বিকল্প রোজগারের ব্যবস্থা না থাকায় সরকার ঘোষিত বন্ধের মধ্যেও আইন অমান্য করে ঘর থেকে বের হতে হচ্ছে নিম্ন আয়ের মানুষকে। অবশ্য করোনাভাইরাসের কারণে বর্তমানে শহর ও গ্রামে যেসব কর্মজীবী মানুষ কর্মহীন হয়ে খাদ্য সমস্যায় আছে, তাদের তালিকা তৈরি করে খাদ্য সহায়তা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু মাঠপ্রশাসনের কাছে কি এই অসহায় মানুষের কোনো তালিকা আছে?

এখন সবাইকে যার যার অবস্থানে থেকে সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে। ঘরে থেকে নিজেকে নিরাপদ রাখার পাশাপাশি অন্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যেমন নাগরিক দায়িত্ব, তেমনি নিম্ন আয়ের মানুষের ঘরে খাবার পৌঁছে দিতে হবে। খাদ্যপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে পারলে মানুষ ঘরের বাইরে যাবে না। এ জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাঠে নামতে হবে। আমরা আশা করব, সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করবেন। করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সবাইকে ভূমিকা রাখতে হবে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা