kalerkantho

শুক্রবার । ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৫ জুন ২০২০। ১২ শাওয়াল ১৪৪১

সংকটকালে খাদ্য সহায়তা

কর্মসূচি ঠিকমতো চালু রাখতে হবে

৩০ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতিতে দেশে সম্ভাব্য সবচেয়ে বিপন্ন মানুষের তালিকায় রয়েছে তারাই, যারা ‘দিনে আনে দিনে খায়’। সঞ্চয়হীন লোকজনই করোনার সবচেয়ে বড় শিকারের ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রথম সারিতে রয়েছে দিনমজুর, ঠেলাওয়ালা, নির্মাণ শ্রমিক, রিকশাওয়ালা ও ফেরিওয়ালা; দ্বিতীয় সারিতে রয়েছে ফুটপাতের চায়ের দোকানদার, হকার, ঠেলায় করে শাকসবজি বিক্রেতা ও ফুটপাতে কারিগরির কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিরা; তৃতীয় সারিতে রয়েছে নিম্নমধ্যবিত্ত ও পাড়ার মুদি দোকানদার। সংকট দীর্ঘায়িত হলে মধ্যবিত্ত ও সাধারণ কৃষক পরিবারও ঝুঁকিতে পড়বে। ঝুঁকিপূর্ণ লোকদের জন্য মাত্রার ক্রমানুসারে জরুরি খাদ্য সরবরাহের ব্যবস্থা সরকারকে নিতে হবে। বিশ্বের অনেক দেশেই জরুরি খাদ্য সরবরাহ কর্মসূচি চালু হয়েছে। এ ব্যাপারে বেসরকারি উদ্যোগও গ্রহণ করা যেতে পারে।

সরকার একটি উদ্যোগ নিয়েছে, এটি ভালো পদক্ষেপ। করোনার সংক্রমণ রোধে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকা মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। সরকারি নির্দেশনা মেনে ঘরে থাকায় হতদরিদ্র মানুষকেও দেওয়া হচ্ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী। জরুরি খাদ্যসামগ্রীর মধ্যে রয়েছে চাল, ডাল, তেল, লবণ ও আলু। সাবান, মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার এবং জরুরি ওষুধও দেওয়া হচ্ছে। করোনার প্রাদুর্ভাবে সবচেয়ে বেশি অসুবিধায় পড়েছে খেটে খাওয়া মানুষ। তাদের অনেকের আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে গেছে। প্রতিদিনের খাবার জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছে তারা। এই দুর্যোগকালে সরকারের এ কর্মসূচি সাধারণ মানুষের মনে কিছুটা হলেও স্বস্তি জোগাবে, সন্দেহ নেই। কর্মসূচি যথাযথভাবে চালু রাখা হোক। পর্যায়ক্রমে এর আওতা বাড়ানোর প্রয়োজন দেখা দিতে পারে। তাই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে রাখা উচিত। একই সঙ্গে বাজারের ওপর কড়া নজর রাখতে হবে, যাতে অসাধু ব্যবসায়ীরা দুর্যোগের সুযোগ নিতে না পারে।

বাড়ি বাড়ি খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে। গ্রাম-শহর-নগর সব এলাকায়ই চালানো হচ্ছে। বেসরকারি উদ্যোগে বা ব্যক্তি উদ্যোগেও জরুরি খাদ্য সরবরাহ করা হচ্ছে। বেশ কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠান তৎপর হয়েছে। বিতরণের কাজে প্রশাসনের লোকদের সঙ্গে পুলিশ বাহিনীর সদস্যরাও শামিল হয়েছেন। তবে দুঃখজনক খবর হলো, কয়েকজন সংসদ সদস্য এ সময় এলাকায় অনুপস্থিত বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। এটি কাম্য নয়। জনপ্রতিনিধিদের অবশ্যই এলাকায় থাকতে হবে—মানুষের পাশে।

এ দেশে জরুরি সহায়তা সামগ্রী কুক্ষিগত করার বহু নজির রয়েছে। এবার যেন তেমন ঘটনা না ঘটে তার জন্য কঠোর নজরদারি দরকার। মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে কোনো ধরনের নয়ছয় কাম্য নয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা