kalerkantho

রবিবার। ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭। ৯ আগস্ট ২০২০ । ১৮ জিলহজ ১৪৪১

জাতির উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

মধ্যবিত্তের জন্যও প্রণোদনা দরকার

২৭ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জাতির উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

দেশে নভেল করোনাভাইরাসের মহামারি সারা বিশ্বেই ছন্দঃপতন ঘটিয়েছে। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। এবার স্বাধীনতা দিবসের সমাগম হয়নি। স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে জাতির উদ্দেশে দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর ভাষণেও প্রাধান্য পায় করোনা ইস্যু। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সরকারের প্রচেষ্টায় আস্থা রেখে, আতঙ্কিত না হয়ে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুসরণ করে সুরক্ষিত থাকতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সংকটে ধৈর্য ধরে নির্দেশনা মেনে জলার আহ্বান জানিয়েছেন। করোনা শনাক্ত ও চিকিৎসায় যেসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা তুলে ধরেছেন।

বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ বাংলাদেশে অতি সংক্রামক এই ব্যাধি বাংলাদেশে ব্যাপক মাত্রায় ছড়িয়ে পড়লে কী পরিণতি ঘটবে, তা নিয়ে সবার মধ্যে রয়েছে উদ্বেগ-আতঙ্ক। সংগত কারণেই প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের বেশির ভাগজুড়েই ছিল করোনাভাইরাস সংক্রমণে নেওয়া সরকারের পদক্ষেপের কথা। দিয়েছেন সচেতনতামূলক নানা পরামর্শ। এ ছাড়া তাঁর ভাষণে বাজার ব্যবস্থাপনা, নিম্ন আয়ের মানুষের সুরক্ষা এবং উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অর্থনীতিকে সচল রাখার দিকনির্দেশনাও রয়েছে। করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকিয়ে জনগণকে সুরক্ষিত রাখতে সরকার কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তা দেশবাসীর সামনে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি প্রণোদনামূলক কর্মসূচিও ঘোষণা করেন। নিম্ন আয়ের ব্যক্তিদের ‘ঘরে ফেরা’ কর্মসূচির আওতায় নিজ নিজ গ্রামে সহায়তা প্রদান করা; গৃহহীন ও ভূমিহীনদের জন্য বিনা মূল্যে ঘর, ছয় মাসের খাদ্য এবং নগদ অর্থ প্রদান করা; বিনা মূল্যে ভিজিডি, ভিজিএফ এবং ১০ টাকা কেজি দরে চাল সরবরাহ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। একইভাবে বিনা মূল্যে ওষুধ ও চিকিৎসাসেবার বিষয় উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে। দেশের রপ্তানিমুখী খাতের শ্রমিকদের বেতন দিতে পাঁচ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনার ঘোষণাও দেন তিনি। সংকটকালীন এই পরিস্থিতির সুযোগ না নিতেও সতর্ক করেন তিনি।

সমাজের একটি বড় অংশ হচ্ছে মধ্যবিত্ত শ্রেণি। এই শ্রেণিটিই সমাজের ভারসাম্য রক্ষা করে। বড় আশা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের দিকে তাকিয়ে থাকা মধ্যবিত্তের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে উল্লেখযোগ্য কিছু নেই। ফলে তাদের মধ্যে হতাশা দেখা দিতে পারে। যখন সরকারের হাতে পর্যাপ্ত মজুদ আছে, তখন স্বাধীনতা-পরবর্তীকালের মতো কি রেশন কার্ড চালু করা যেত না?  এই একটি ব্যবস্থাই সমাজের মধ্যবিত্ত শ্রেণির জন্য সম্মানজনক প্রণোদনা হতে পারে। বিষয়টি নিয়ে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে সিদ্ধান্ত আসবে, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী আন্তরিকতার সঙ্গে বিবেচনা করবেন—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা