kalerkantho

সোমবার  । ১৬ চৈত্র ১৪২৬। ৩০ মার্চ ২০২০। ৪ শাবান ১৪৪১

করোনা প্রতিরোধে ব্যবস্থা

মানুষের জন্য নিয়ম মেনে চলুন

২৫ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



মানুষের মধ্যে করোনাভাইরাস আতঙ্ক বেশ ভালোভাবেই ছড়িয়েছে। আতঙ্কে অনেকেই এরই মধ্যে নিজেদের ঘরবন্দি করেছে। স্বাধীনতা দিবসের সব সমাবেশ স্থগিত ঘোষণার পর ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের সব সরকারি-বেসরকারি অফিস বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আগেই সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ৩১ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। করোনা পরিস্থিতি সামাল দিতে এই ছুটি আরো বাড়ানো হচ্ছে। ঈদুল ফিতরের পর ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সম্ভাবনা নেই বলে ধারণা করা হচ্ছে। নভেল করোনাভাইরাসের ব্যাপক সংক্রমণ ঠেকাতে সারা দেশে ছুটি ঘোষণার পর এবার সড়কপথে গণপরিবহন, নৌপথে লঞ্চ এবং রেলপথে মেইল ও লোকাল ট্রেন চলাচল বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। লকডাউনের ঘোষণা না হলেও মানুষের চলাচল সীমিত করে একে অপরের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখার মাধ্যমে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়া রোধ করার পন্থাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকার সশস্ত্র বাহিনীর সহযোগিতায় সিভিল প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে এ পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে চায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ও নিয়ম মানতে সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থান গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

সরকারের নীতিনির্ধারকদের ধারণা, ধৈর্য ধরে ও পরিকল্পিত উদ্যোগের মাধ্যমে বৈশ্বিক এই সংকট মোকাবেলা করা সম্ভব। কিন্তু এই অঘোষিত লকডাউনের প্রভাব পড়বে জনজীবনে। রাস্তায় মানুষের চলাচল কমে যাওয়ায় আয় কমে গেছে রিকশা, ভ্যান, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও বাসচালকদের। দিনমজুরদের কাজও গেছে কমে। অনেক দিনমজুর ঢাকা ছেড়ে এরই মধ্যে বাড়িতে চলে গেছে। সব বিপণিবিতান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবার-পরিজন নিয়ে সামনের দিনগুলোতে অন্ধকার দেখছে দোকান মালিক ও কর্মচারীরা। পরিবহন শ্রমিক ও পর্যটনশিল্পের সঙ্গে জড়িত ছোট পুঁজির উদ্যোক্তাদেরও আয় কমে গেছে। ওদিকে পর্যাপ্ত মজুদের পরও কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজারে নিত্যপণ্যের দাম বাড়াচ্ছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। অভিযান, নজরদারি, জরিমানা করেও নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না এই অসাধু ব্যবসায়ীদের। করোনায় আতঙ্কিত মানুষ কেনাকাটা কিছু কমালেও কমছে না প্রয়োজনীয় নিত্যপণ্যের দাম। স্বস্তির খবর নেই নিত্যপণ্যের বাজারে।

গণপরিবহন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি অফিস বন্ধসহ আরো অনেক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে জনস্বার্থে। মানুষের জীবন বাঁচাতে হবে সবার আগে। আবার সরকারকেও মনে রাখতে হবে স্বল্প আয়ের মানুষের কথা। আসুন, আমরা সবাই মিলে প্রমাণ করি ‘মানুষ মানুষের জন্য’।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা