kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৪ চৈত্র ১৪২৬। ৭ এপ্রিল ২০২০। ১২ শাবান ১৪৪১

ব্যক্তিগত সুরক্ষার বিকল্প নেই

ঘরে থাকার পরামর্শ মেনে চলুন

২৪ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




ব্যক্তিগত সুরক্ষার বিকল্প নেই

বাংলাদেশে শুধু নয়, বিশ্বজুড়েই প্রতিদিন বাড়ছে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা। মৃতের সংখ্যাও বাড়ছে। আবার পাশাপাশি করোনামুক্ত হওয়ার খবরও আসছে। যে চীনে করোনাভাইরাসের উত্পত্তি, সেই চীন এখন করোনামুক্ত। উহানের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। বিশ্বের আরো অনেক দেশ নিজেদের মতো করে করোনাভাইরাস মোকাবেলার চেষ্টা করছে। কোথাও কোথাও এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে যে মনে হতে পারে মানুষের মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। কোনো কোনো দেশে কারফিউ জারি করা হয়েছে। মানুষের চলাফেরা নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। মানুষকে ঘরে থাকতে বাধ্য করা হয়েছে। আর এসব করা হয়েছে দেশের জনগণের জীবন রক্ষার তাগিদে।

অনেক আগেই কভিড-১৯ রোগকে বৈশ্বিক মহামারি ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। আক্রান্তের সংখ্যা তিন লাখ ছাড়িয়েছে। প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, এরপর পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ এমন সব আগ্রাসী পদক্ষেপ গ্রহণ করে, যেখানে নাগরিকদের ঘরে থাকার ওপর জোর দেওয়া হয়। এভাবে চীন, সিঙ্গাপুর, তাইওয়ান, দক্ষিণ কোরিয়া করোনা মোকাবেলায় এখন পর্যন্ত সাফল্য পেয়েছে। রাশিয়া ঘরে থাকা বাধ্যতামূলক করেছে। কেউ এই নিয়ম না মানলে পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের ঘোষণা দিয়েছে। ইতালি ও যুক্তরাষ্ট্রও এ পথেই গেছে। ভারতের ২৮টি রাজ্য ও আটটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মধ্যে ২২টি ৩১ মার্চ পর্যন্ত সম্পূর্ণ অথবা আংশিক লকডাউনে যাচ্ছে বলে খবরে প্রকাশ। কোনো দেশে কারফিউ, কোথাও লকডাউন, কোথাও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন, আবার হোম কোয়ারেন্টিন করা হচ্ছে। সব দেশেই রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা বা সরকারি পদক্ষেপ ও সামাজিক সক্রিয়তার মধ্য দিয়ে ‘ঘরে থাকা’ নিশ্চিত করতে চেষ্টা চলছে। করোনাভাইরাস থেকে বাঁচতে ‘ঘরে থাকা’র কার্যকর ব্যবস্থা বাস্তবায়নে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বিভিন্ন রকম পদক্ষেপ নিয়েছে বা নিচ্ছে, তখন বাংলাদেশে শুধুই হোম কোয়ারেন্টিন ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন পর্যায়ে আছে। আবার এ ক্ষেত্রে নাগরিকদের মধ্যে যে উদাসীনতা তা রীতিমতো চোখে পড়ার মতো। অন্যদিকে সরকারের দিক থেকেও শৈথিল্য দেখানো হচ্ছে।

এখন পর্যন্ত যেসব তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তাতে বুঝতে অসুবিধা হয় না যে নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে নিজেদের সচেতনতার ওপর। সার্বক্ষণিক পরিচ্ছন্ন থাকা, অন্যের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা—এমন বেশ কিছু জরুরি নির্দেশনা প্রচার করা হচ্ছে নানা মাধ্যমে। এর অংশ হিসেবে এরই মধ্যে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সিনেমা হলসহ জনসমাগম হয় এমন সব অনুষ্ঠান আয়োজনও। কিন্তু বিস্ময়কর ব্যাপার হচ্ছে, এর পরও দেশের মানুষ যেন এই বিপদের গুরুত্ব বুঝতে পারছে না। অনেকের মধ্যেই সচেতনতার ন্যূনতম উদ্যোগ নেই। বিভিন্ন রুটে চলাচল করা বাসগুলোতে কোনো ধরনের জীবাণুনাশক স্প্রে করা হয় না। ফুটপাতে খোলা সড়কে ড্রেনের পাশে চলছে ভাতের হোটেল।

আসুন, আমরা সবাই ব্যক্তিগত জীবনাচার মেনে চলি। নিজেদের সুরক্ষা নিজেরাই গড়ে তুলি।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা